সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানচেষ্টার পরই ২০১২ সালে আলোচনায় আসেন মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক। অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হবার পর থেকেই জিয়ার আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
জিয়াউল হকের শ্বশুরবাড়ি পটুয়াখালীর তিতাস সিনেমাহলের দক্ষিণ পার্শ্বে। তার শ্বশুরের নাম মোখলেছুর রহমান, শাশুড়ি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা হামিদা বেগম। জিয়াকে ধরতে পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকায় জিয়ার শ্বশুর মোখলেছুর রহমানের বাসায় নজরদারি জোরদার হয়েছে বলে পটুয়াখালী পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
২০১২ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর পটুয়াখালীর শ্বশুরবাড়িতে চলে দফায় দফায় অভিযান।
জিয়ার শাশুড়ি হামিদা বেগম সেই সময় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি (জিয়া) পটুয়াখালীর বাসায় কখনো আসেননি। এবার পুরস্কার ঘোষণার পর উৎসুক জনতাও এ বাড়ির দিকে নজর রাখছে। কিন্তু জিয়াকে এখানে দেখা যায়নি বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেনা সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর প্রাক্তন ও বর্তমান কিছু সদস্য দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত এবং সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিল।
২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর এই চক্রান্ত সেনাবাহিনী জানতে পারে। ১৯ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়েছিল, এ ঘটনার সঙ্গে সেনাবাহিনীর মেজর জিয়াসহ (বর্তমানে বহিস্কৃত) মধ্যম পর্যায়ের ১৪ থেকে ১৬ কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন।
এই অভ্যুত্থানচেষ্টায় বিদেশ থেকে ইন্ধন যোগানো প্রবাসী বাংলাদেশি ইশরাক আহমেদের নামও জানা যায়। ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের তদন্ত দ্রুত শেষ করার জন্য সেই সময় সেনাবাহিনীতে মোট ৬টি তদন্ত দল কাজ শুরু করে। একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের তদন্ত দল কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের কাজে যুক্ত ছিলেন। লে. কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্য করে ঢাকার বাইরে আরও পাঁচটি তদন্ত দল তখন গঠন করা হয়েছিল।
সেই সময় সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মেজর জিয়া হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িত।
তবে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে জিয়াকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মাস্টারমাইন্ড বলে উল্লেখ করেছেন।
গুলশান হামলার পর আবার জিয়ার নাম সামনে আসে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেরনে জিয়াকে এ হামলার মাস্টার মাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাকে ধরতে ২০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণার পরপরই নড়েচড়ে বসে অনেকে।
আবার সামনে চলে আসে পটুয়াখালীর সবুজবাগে জিয়ার শ্বশুরবাড়ি।
এ বাড়ির দিকে পুলিশ, গোয়েন্দাসহ সাধারণ মানুষ ও মিডিয়া কর্মীরাও নজরে রাখছে।
পটুয়াখালীর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম তরিকুল ইসলাম জানান সবুজবাগে জিয়ার শ্বশুরবাড়িতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।


