শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

অলিম্পিকের উদ্বোধন আজ


NEWSWORLDBD.COM - August 5, 2016

olimpicইতিহাসের সবচেয়ে সমস্যাসঙ্কুল রিও অলিম্পিক আসর মেয়েদের ফুটবলের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বুধবার। ছেলেদের ফুটবল মাঠে গড়িয়েছে বৃহস্পতিবার। আজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায়। কিন্তু সাত বছর ধরে প্রস্তুতি নেয়ার পর এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যেন ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটি!’

‘ক্রাইস্ট ডি রিডিমার’-এর পদতলে অমরত্বের সন্ধানে ছুটবেন বিশ্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্ট। ‘সুগারলোফ মাউন্টেইন’-এর ছায়াতলে জলের ওপর গতির হল্কা ছড়াবে রোয়িং ইভেন্ট। কোপাকাবানা সৈকতের সোনালি বালুকাবেলায় বিচ ভলিবল ফিরে আসবে তার জন্মভূমিতে! এখানেই শেষ নয়। পুলের জলে তৈরি থাকবেন ‘জলদানব’— মাইকেল ফেলপস। রিওতে ৩১তম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক তার নিজের সঙ্গে শেষ বোঝাপড়ার আসরও। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষেই ১৭ দিনের জন্য এসব মণি-মুক্তার পসরা সাজিয়ে বসবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অব আর্থ’। কিন্তু পার্টি শুরুর আগেই ‘হ্যাংওভার’-এ ডুবেছে ব্রাজিল!

২০০৯ সালে অলিম্পিক আয়োজনের স্বত্ব লাভ করে ব্রাজিল। সবাই ভেবেছিল, লাতিন আমেরিকার প্রথম অলিম্পিক আসরকে সাম্বার তালে রাঙিয়ে দেবে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো দেশটি। কিন্তু ভুল। ব্রাজিল এখন নির্মম অর্থনৈতিক মন্দার শিকার। সেসঙ্গে পিঠের ওপর চেপে বসেছে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছানোর বেকারত্বের হার। এর সঙ্গে যোগ করুন জিকা ভাইরাস আতঙ্ক, যে কারণে টেনিস ইভেন্টে নাম লেখাননি রাওনিচ-হালেপরা। নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন গলফের শীর্ষ চার তারকা।

অবকাঠামোগত সমস্যাও কম নেই। বেশকিছু ইভেন্টের ভেনু এখনো প্রস্তুত নয়। প্রস্তুত নয় অলিম্পিক ভিলেজও; প্রতিদিনই নানা অভিযোগ করছেন অ্যাথলিটরা। অলিম্পিক আয়োজনে বাজেটে ঘাটতি পড়ায় কিছুদিন আগে রিওতে ‘জরুরি অবস্থা’ জারি করেন শহরটির মেয়র। পাশাপাশি চোখ রাঙানি দিচ্ছে রাজনৈতিক সমস্যাও। অলিম্পিক আয়োজনের উত্সবমুখর পরিবেশের মধ্যে অভিশংসনের মাধ্যমে বরখাস্ত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট জিলমা হুসেফ। বিষণ্নতা তাই এখন ব্রাজিলিয়ানদের নিত্যদিনের সঙ্গী। অলিম্পিক তাদের টানছে না! ছেলেদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের মতো কিছু ইভেন্ট মিলিয়ে অবিক্রীত থেকে গেছে ১০ লাখেরও বেশি টিকিট। এছাড়া বুধবার নারী ফুটবল ইভেন্টের প্রথম ম্যাচে ৬০ হাজার আসনবিশিষ্ট অলিম্পিক স্টেডিয়ামে দর্শক ছিল মাত্র কয়েকশ!

থাকছে সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কাও। কিছুদিন আগে সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে ১০ জনকে গ্রেফতার করে রিও পুলিশ। ব্রাজিলের সাধারণ জনগণও বসে নেই। অলিম্পিক আয়োজনে পাবলিক ফান্ড এখন গড়ের মাঠ। সাধারণ মানুষের চিকিত্সা, শিক্ষা, যোগাযোগ বাজেট কেটে আয়োজিত হচ্ছে রিও অলিম্পিক। এর প্রতিবাদে প্রতিদিনই অলিম্পিক ভিলেজের চারপাশে চলছে বিক্ষোভ মিছিল। পোড় খাওয়া সাধারণ ব্রাজিলিয়ানরা যেন বিশ্বসেরা অ্যাথলিটদের জানাতে চায়, অলিম্পিক উত্সব নামক মুদ্রার উল্টো পিঠেই রয়েছে ঘোর অমানিশা! রিওর ডকইয়ার্ড শ্রমিক কার্লোস রোবের্তো যেন সেটাই বোঝাতে চাইলেন, ‘ব্রাজিলের উন্নতিতে অলিম্পিক হয়তো অবদান রাখবে। কিন্তু এ মুহূর্তে আমাদের দেশটা ভীষণ দুঃখী। বেকারত্ব, দুর্নীতি আর দাঙ্গা-ফ্যাসাদে ভরে গেছে চারপাশ। হাসপাতালে গেলে আপনি ওষুধ কিংবা ডাক্তার কিছুই পাবেন না। তাই অলিম্পিক ব্রাজিলিয়ানদের জন্য সামান্য উত্সবের উপলক্ষ ছাড়া আর কিছুই নয়।’

অলিম্পিকের জন্য রিওর চেহারা খোল-নলচে পাল্টে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আয়োজকরা। বলা হয়েছিল, শহরটির নোংরা গুয়ানবারা সৈকত পরিষ্কার করা হবে। শহরটির অর্ধেক জনগোষ্ঠীর পয়োনিষ্কাশনের পানি বহন করছে গুয়ানবারা সৈকত। কিন্তু আয়োজকরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েই খালাস, সেইলিং আর উইন্ডসার্ফিংয়ের মতো ইভেন্ট গড়াবে গুয়ানবারা সৈকতের বিষাক্ত নোংরা জলে!

রিও অলিম্পককে নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা আসর হিসেবেও অভিহিত করা চলে। প্রায় ৯০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মাঠে নামিয়েছে ব্রাজিল, যা লন্ডন অলিম্পিকে নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যার তুলনায় দ্বিগুণ। অ্যাথলিটদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ‘অপরাধের শহর’ হিসেবে কুখ্যাত রিও ডি জেনিরোতে পা রাখা অলিম্পিক টুরিস্টদের দেখভাল করবেন তারা। কিন্তু নিরাপত্তার মান নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। স্বয়ং অলিম্পিক ভিলেজে চুরির শিকার হয়েছে ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া ও চীনা অলিম্পিক বহর! এছাড়া গত মে মাসে স্প্যানিশ সেইলিং টিম বন্দুকের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার হয়।

কিন্তু এতসব সমস্যাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারে নেইমারের হাতে স্বর্ণ কিংবা বোল্টের নিষ্পাপ হাসিমুখ আর সবচেয়ে সফল অলিম্পিয়ান ফেলপসের ভাবলেশহীন সাফল্য দ্যুতি। তবে তারকাদের ছাপিয়ে এরই মধ্যে রিও অলিম্পিককে রাঙিয়ে দিয়েছে ১০ শরণার্থী অ্যাথলিটের দল। অলিম্পিকের ইতিহাসে এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছে দেশহীন শরণার্থীদের দল। মারাকানা স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অলিম্পিক পতাকাতলে মার্চ-পাস্টের সময় কেমন লাগবে তাদের? শরণার্থী দলটির সদস্য ‘জুডোকা’ ইয়োলান্দে মাবিকার জবাব, ‘রিও অলিম্পিক শুধু খেলাধুলার জন্য সংগ্রামের আসর নয়, বরং এটা আমাদের জীবনের সংগ্রামও।’

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.