দুই হাজার নতুন জনবল নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নিজস্ব জনবল কাঠামোর (অর্গানোগ্রাম) এ অনুমোদন পেয়েছে বেবিচক। এ পরিপ্রেক্ষিতে দুই হাজার নতুন জনবলের নিয়োগবিধি প্রস্তুতের কাজ এরই মধ্যে শুরু করেছে বেবিচক। এটি অনুমোদন পেলে অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী নিয়োগ দেয়ার কাজ শুরু হবে।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার জনবলের চাহিদা দেয়া হলেও সব দিক বিবেচনা করে দুই হাজারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনবল নিয়োগে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বেশকিছু অবজারভেশন (মতামত) দেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, বেবিচকের সব ধরনের কার্যক্রম ডিজিটাল করতে হবে। দাফতরিক কাজে কাগজের পরিবর্তে ই-ফাইলিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এজন্য বেবিচককে একটি আইসিটি বিভাগ খোলার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বেবিচকের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ডাটাবেজ (তথ্যভাণ্ডার) তৈরির বিষয়টিও অর্গানোগ্রামে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বেবিচক পরিচালক (প্রশাসন) গৌতম কুমার ভট্টাচার্য বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি দুই হাজার নতুন পদের অনুমোদন এসেছে। বর্তমানে নিয়োগবিধি তৈরির কাজ চলছে। পরে অনুমোদনের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিয়োগবিধিটি পাঠানো হবে।
জানা গেছে, নতুন অর্গানোগ্রামের নিয়োগবিধি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসাপেক্ষে সচিব কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখান থেকে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবে। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিলেই এ দুই হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে বেবিচক।
এর আগে ২০ বছরের চাহিদা বিবেচনা করে নিজস্ব অর্গানোগ্রামের একটি খসড়া তৈরি করে বেবিচক। অনুমোদনের জন্য ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ওই অর্গানোগ্রামটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। অর্গানোগ্রামের এ খসড়ায় ১৩ হাজার ৭৭৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাহিদার কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাটছাঁট করে ২০১২ সালের জুনে ১০ হাজার ৬৯৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অর্গানোগ্রামের তালিকা পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। উল্লেখ্য, বর্তমানে বেবিচকের যে অর্গানোগ্রাম রয়েছে, তা ১৯৮৫ সালে গঠিত। এতে চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ রয়েছে ৩ হাজার ৭১৬টি।
প্রসঙ্গত, ফ্লাইট নিরাপত্তায় দুর্বলতার কারণে ২০০৯ সালে বেবিচককে দ্বিতীয় ক্যাটাগরির নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ)। সে সময় ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হতে কিছু শর্ত দেয়া হয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি শর্ত হচ্ছে— বেবিচকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও নিজস্ব জনবল কাঠামো অনুযায়ী জনবল নিয়োগ।
এদিকে ক্যাটাগরি-২-এ থাকায় বেবিচক থেকে অনুমোদন নেয়া সংস্থার উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বেশকিছু দেশে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পাচ্ছে না। একই কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো উড়োজাহাজেরও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি নেই। এ কারণেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিউইয়র্ক রুটের ফ্লাইটও চালু করা সম্ভব হয়নি।


