ব্রাজিলের রিও ডি জিনেরিওতে পর্দা উঠলো অলিম্পিক আসরের। মারকানা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী আয়োজন দেখতে উপস্থিত হন ৬০ হাজার দর্শক। আর সারা বিশ্বের ৩ বিলিয়ন দর্শক তা উপভোগ করেন সরাসরি টেলিভিশনে।প্রতিটি দেশের প্রতিযোগীরা নিজ নিজ দেশের পতাকা হাতে স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করেন।
এবারে বিশ্বের ২শ’র বেশি দেশের এথলেটদের অংশগ্রহণে এই আয়োজনের উদ্বোধনী আসরে ব্রাজিলের বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ইতিহাস ও ভিন্নতাকে তুলে ধরার জমকালো আয়োজন ছিল। অলিম্পিকে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে খেলোয়াড়দের মার্চপাস্ট অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। এ মার্চপাস্টে বাংলাদেশের সাতজন ক্রীড়াবিদসহ মোট ১৬ সদস্যের দলে লাল-সবুজের পতাকা বহন করেছেন গলফার সিদ্দিকুর রহমান। শুরুতেই ২০৬টি দেশের ১০ হাজার ৫০০ ক্রীড়াবীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মার্চপাস্ট। ইংরেজি অক্ষরের ক্রমানুসারে অনুষ্ঠিত হয় এই মার্চপাস্ট।এবারের অলিম্পিকেই প্রথমবারের মতন শরণার্থীদের একটি দল প্যারেডে অংশগ্রহণ করে।
বাংলাদেশ থেকে সাত অলিম্পিয়ানের মধ্যে এক মাত্র সিদ্দিকুর রহমানই সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই দেশের হয়ে প্রথম সরাসরি অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করায় তার হাতেই থেকেছে জাতীয় পতাকা।
বাংলাদেশের অন্য ছয় ক্রীড়াবিদ হলেন- শ্যুটার আব্দুল্লা-হেল বাকী, সাঁতারু- মাহফুজুর রহমান ও সোনিয়া আক্তার, আর্চার- শ্যামলী রায়, অ্যাথলেট মেজবাহ আহমেদ ও শিরিন আক্তার।
‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত অলিম্পিকের আয়োজক হতে পেরে ব্রাজিল যখন একদিকে গর্বিত ও আনন্দিত, অন্যদিকে দেশটির একটি বড় অংশ এই আয়োজনের বিরোধিতা করে যাচ্ছেন। বিরোধীরা বলছেন, এই আয়োজনের আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের জন্য যে বিরাট অর্থ খরচ হল তা ব্রাজিলের দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কাজে লাগানো যেত।
ব্রাজিলের ১০০টি স্টেট থেকে প্রধানরা আসবেন বলে আশা করছিলেন আয়োজকরা। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শেষপর্যন্ত ২৫টি স্টেট থেকে এসেছেন প্রতিনিধিরা।
এবারের অলিম্পিকে ব্রাজিলের কিংবদন্তী ফুটবলার পেলে মশাল প্রজ্বলন করবেন বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণ দেখিয়ে তিনি মশাল প্রজ্বলন করা থেকে বিরত থাকেন।
গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই আর্চারিতে মেয়েদের ব্যক্তিগত র্যাঙ্কিং রাউন্ডের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে হয় বাংলাদেশের প্রমীলা তীরন্দাজ শ্যামলী রায়কে। সেখানে ১১জনকে পেছনে ফেলে ৫৩ তম অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। মিস রায়ের স্কোর ৬০০।
এই পর্বের নাম র্যাঙ্কিং রাউন্ড। এখানে র্যাংকিং-এ থাকা ৬৪ জনের মধ্য থেকে কোয়ালিফাই হবেন ৩২ জন। আর বুধবার ‘রাউন্ড অব থার্টি টু’ অর্থাৎ বত্রিশে ওঠার লক্ষ্যে এলিমিনেশনস রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন শ্যামলী। সেরা বত্রিশ জনকে নিয়ে আবার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টিকে থাকতে হবে ১৬ জনকে। সেই ষোলো জনকে নিয়ে শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। আর্চারির র্যাঙ্কিং–এ শীর্ষে আছেন দক্ষিণ কোরিয়ার চোই মি সান।
এবারই প্রথমবার অলিম্পিকে খেলতে গেলেন শ্যামলী। ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের কখনোই অলিম্পিক গেমসে পদক পাওয়ার নজির নেই। ঢাকা ছাড়ার আগে বাংলাদেশের এই তীরন্দাজ শ্যামলী রায় বলেছিলেন, অলিম্পিকসে পদক পাবেন এমনটা তিনি আশা করতে না পারলেও, সেরা খেলাটাই খেলে আসতে চান। সেইসাথে র্যাঙ্কিং-এ বাংলাদেশেকে সামনে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।


