ইউরোপের পুলিশ সংস্থা ‘ইউরোপোলের’ সন্ত্রাসবিষয়ক এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে হামলার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইএস ও আল কায়দা শাখা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে পশ্চিমাদের টার্গেট করে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ওই অঞ্চলগুলোতে ভবিষ্যৎ হামলা ও অপহরণের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি করবে।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ইউরোপোল ‘সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি এবং প্রবণতা প্রতিবেদন ২০১৬’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২০০৬ সাল থেকে ইউরোপোল প্রতিবছর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।
ইউরোপোলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য হুমকি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ হুমকি দিনের পর দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোপীয় জিহাদিরা আইএসে গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রহণ করেছে এবং তারা নিজ দেশে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ভারতীয় উপমহাদেশে আল কায়দা একজন পাকিস্তানি ও তিনজন ব্লগারের হত্যার দায় স্বীকার করেছে। ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে একজন ইতালীয় নাগরিক এবং ৩ অক্টোবর একজন জাপানি নাগরিক হত্যার পর আইএস তার দায় স্বীকার করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অবশ্য দাবি করেছেন, তদন্তকারীরা অনুসন্ধান করে জেনেছেন, সন্ত্রাসীরা অভ্যন্তরীণ। বাংলাদেশে কোনো আইএস সদস্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমে এক নিবন্ধে বলেছেন, ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলায় শোকগ্রস্ত বাংলাদেশেও কোনো কিছুই আর আগের মতো থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট সংবাদ পোর্টাল ‘ইউএসনিউজ’-এ শুক্রবার প্রকাশিত নিবন্ধে এ মত তুলে ধরেন তিনি।
মাহমুদ আলী বলেন, দেশের ভেতরেই বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর ধর্মনিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল রাষ্ট্রের লালিত স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশীদের প্রতিজ্ঞা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ১৯৭৫ সালের এ মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসের সঙ্গে বাংলাদেশ খুব ভালোভাবেই পরিচিত। কারণ দেশটির জন্মের মাত্র চার বছর পরই ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছে। আর ৪১ বছর পর যখন তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী, তখন হলি আর্টিজানের ঘটনার হতাহতদের মা-বাবার প্রতি তার মতো সমবেদনা খুব কম মানুষই দেখাতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘গৃহজাত’ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে তার চেয়ে কেউ বেশি সক্ষম বা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নেই- প্রবন্ধে লিখেছেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশী সন্ত্রাসীরা আইএসের কালো পতাকা পেছনে রেখে ছবি তুললেও তারা প্রকৃতই আইএস নয়। এরা স্থানীয় বিদ্রোহী, যারা সহিংস হয়ে তাদের এই রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত নাম যোগ করেছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দারা এটা নিশ্চিত করেছেন।


