আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে বিকল্প জোট গঠনের লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠক করেছেন জেএসডি, বাসদ ও নাগরিক ঐক্যের নেতারা।
রোববার আ স ম রবের উত্তরার বাসভবনে এ বৈঠক হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন।
তবে ঠিক কবে নাগাদ ঐক্যের বিষয়টি স্পষ্ট হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না জোটের উদ্যোক্তারা।
বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানান, দুই জোটের বাইরে থাকা সব প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটা বিকল্প জোট গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে নেতারা বলছেন, আমাদের মধ্যে ঘরোয়া আলোচনা হয়েছে। এখনো ঘোষণা দেয়ার মতো কিছু হয়নি। হলে সবাইকে জানানো হবে।
আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘এ বৈঠকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্বনিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা এ তিন দল চলমান বিভিন্ন ইসুতে কর্মসূচি গ্রহণ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এ নিয়ে আমাদের দলের সভাপতির বাসভবনে জেএসডি ও বাসদ, নাগরিক ঐক্যের মধ্যে বৈঠক হয়েছে।’
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভূইয়া বলেন, ‘আমাদের ও সিপিবি মাসব্যাপী কর্মসূচি চলছে। এ কর্মসূচিতে সবাইকে কিভাবে শামিল করা যায় এ নিয়ে ঘরোয়া মিটিং হয়েছে। ঐক্যের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারছি না। জানানোর মতো কিছু হলে সবাইকে জানানো হবে।’
নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার বলেন, ‘আজকে খুব ছোট পরিসরে একটা বৈঠক হয়েছে আমাদের নিজেদের মধ্যে। এমন কোনো আলোচনা হয়নি যা সবাইকে জানানোর মতো। কোনো সিদ্ধান্ত হলে সবাইকে জানানো হবে।।’
জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতৃত্বধীন জোটের মাধ্যমে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সেজন্য আমরা এ দুই জোটোর বাইরের সব প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও সমাজ শক্তিকে নিয়ে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সমাজ শক্তির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি।’
প্রসঙ্গত, এর আগেও কয়েকবার গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে বিকল্প শক্তি গঠনের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু মাহমুদুর রহমান মান্না গ্রেপ্তারের পর সেই প্রক্রিয়ায় ভাটা পড়ে।


