বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি রোধে একাট্টা বড় ব্যবসায়ীরা

Gas_ক্যাপটিভসহ সব ধরনের গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। গ্যাসের এ মূল্যবৃদ্ধি রোধে একাট্টা বড় ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে শিল্পোত্পাদন, বিশেষ করে বস্ত্র ও পোশাক খাত বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভারত টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল খাতের জন্য যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, তার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের তৈরি পোশাকের অংশে ভাগ বসাবে। এ অবস্থায় গ্যাসের দাম বাড়লে বস্ত্র ও পোশাক খাত সংকটে পড়বে।

ক্যাপটিভ ও শিল্প খাতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে গতকাল একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাতসংশ্লিষ্ট মালিক সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতারা। সভায় তারা দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন।

গতকালের ওই বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি তপন চৌধুরী, সহসভাপতি ফজলুল হক, সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান, সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরীসহ বর্তমান পরিচালকরা।

টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মন্তব্য করে তপন চৌধুরী বলেন, তুলার অস্থিতিশীল বাজার ও পাউন্ডের দরপতনের কারণে এক বছর ধরে আমাদের বস্ত্র ও পোশাক খাত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া আমাদের প্রতিযোগী দেশ ভারত বস্ত্র ও পোশাক খাতের জন্য ৬ হাজার কোটি রুপির বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তাদের এ প্যাকেজের আওতায় তিন বছরের মধ্যে বিনিয়োগ প্রায় ৭৪ হাজার কোটি রুপিতে দাঁড়াবে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বস্ত্র খাত জ্বালানি, সহজলভ্য শ্রম ও জিএসপি সুবিধা পাচ্ছিল মন্তব্য করে বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী বলেন, গত দু-তিন বছর শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। জিএসপি সুবিধাও এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। এখন গ্যাসের দাম বাড়ালে জ্বালানি প্রণোদনা থেকেও বঞ্চিত হবে খাতটি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান ক্রেতা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বর্তমানে ইউরো ও পাউন্ডের মূল্য কমে যাওয়ায় তৈরি পোশাক রফতানি আরো প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাসের দাম বাড়ালে শিল্পটি মুখ থুবড়ে পড়বে।

বিটিএমএর সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে যৌক্তিকতা থাকা প্রয়োজন। দাম বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলে ধাপে ধাপে বাড়ানো যেতে পারে। ছয় মাসের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের মুদ্রার বিনিময় মূল্য অভিন্ন হয়ে যাবে। আমরা এসব সমস্যার কথা সবসময় বলে আসছি। আসলে আমরা যে কষ্ট করে শিল্প চালু রাখছি, সে সফলতাই আমাদের কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারার কারণে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উত্পাদনপূর্বক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি দেয় সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিটিএমএর বৃহৎ স্পিনিং, উইভিং, ডায়িং প্রিন্টিং ফিনিশিং হোম টেক্সটাইল ও ডেনিম মিলের অধিকাংশই ক্যাপটিভ বিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। গ্যাসই হচ্ছে এখানকার একমাত্র জ্বালানি। মিলগুলোর প্রযুক্তিগত প্রেক্ষাপটে ২৪ ঘণ্টাই চালু রাখতে হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ হচ্ছে প্রধান নিয়ামক।

ব্যবসায়ীদের মতে, ক্যাপটিভে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ছিল ২ টাকা ৮২ পয়সা, যা বস্ত্র খাতের জন্য ছিল প্রত্যক্ষ প্রণোদনা। পরবর্তীতে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ৪ টাকা ১৮ পয়সা করার পরও তা এ খাতের জন্য প্রণোদনা হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু ২০১৫ সালে পূর্বঘোষণা ছাড়াই ক্যাপটিভে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৪ টাকা ১৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৬ পয়সা করা হয়। এতে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় বস্ত্র খাতকে।

আরও পড়ুন