তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি রাজনীতিতে এলে ভালো করবেন বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে হঠাৎ বিএনপি’র স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়ে প্রসঙ্গ উঠলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, বৈঠকে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ বলেছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুটি পদ এখনও শূন্য রয়েছে। এ দুটি পদ খালেদা জিয়া হয়তো তার দুই ছেলের বউয়ের জন্য রেখেছেন।’
এসময় অন্য মন্ত্রীরা মন্তব্য করতে থাকলে বিষয়টাকে ইতিবাচকভাবে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সে (জোবাইদা) শিক্ষিতা এবং ভালো বংশের মেয়ে। সে রাজনীতিতে এলে ভালোই হবে।’
প্রশংসাকালে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনকে উদ্দেশ করে বলেন,‘তিনি তো আবার উনারও (জোবায়দা) আত্মীয়।’ তখন মন্ত্রিসভায় অনেকে কৌতূহল প্রকাশ করলে মোশাররফ হোসেন জানান, তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের চাচার শ্যালিকার মেয়ে। সম্পর্কে খালাতো বোন হন।’
উল্লেখ্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির কমিটিতে ১৯টি পদের মধ্যে ১৭টি পূরণ হয়েছে। শূন্য রয়েছে দুটি পদ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, জোবাইদা রহমানের বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন বিমান বাহিনীর প্রধান। জোবাইদা রহমান পেশায় ডাক্তার। আলোচিত রাজনৈতিক নেতার স্ত্রী হয়েও সব সময় নিজেকে পরিবারের মধ্যেই গুটিয়ে রেখেছেন। একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে পর্দার আড়ালেই থেকেছেন সব সময়। ওয়ান-ইলেভেনের সময় নির্যাতনের শিকার হন তার স্বামী তারেক রহমান। ২০০৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অসুস্থ স্বামী তারেক রহমান চিকিৎসার উদ্দেশে লন্ডন যাওয়ার সময় তিনি কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি নেন। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী ৫ বছরের বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০১৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে সরকারি চাকরিচ্যুত হন। তিনি লন্ডনে অবস্থানকালীন চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রিও নিয়েছেন।
বিএনপির সূত্রগুলো জানায়, রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম না নিলেও পিতার সামরিক-কৌশলী সান্নিধ্য যেমন তিনি পেয়েছেন, সেই সাথে রাজনৈতিক পরিবারের বধূ হিসেবে ডা. জোবাইদা রহমান নিজেকে অনেকটাই সকলের অগোচরে আদর্শ রমনীর সাথে সাথে একজন পরিপূর্ণ রাজনীতিক হিসেবেই তৈরি করে নিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আমাদের উপমহাদেশে পারিবারিক রাজনৈতিক প্রবাহে অংশহগ্রহণের ধারাবাহিকতায় জোবাইদা রহমানেরও রাজনীতিতে অভিষেক হবে তা বেশ কয়েকবছর ধরেই অনেকে আঁচ করতে পেরেছিলেন।
জোবাইদা রহমানের রাজনীতিতে আসার বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনি শিক্ষিত, বড় বংশের সন্তান এবং সর্বোপরি তার শ্বশুর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, শাশুড়ি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তার স্বামী দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। সুতরাং তিনি রাজনীতিতে এলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে এটি তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তের বিষয়। আমাদের বলার কিছু নেই। অপেক্ষা করতে হবে তিনি রাজনীতিতে আসবেন কি আসবেন না। তবে রাজনীতিতে আসার জন্য মেধা, শিক্ষাসহ সব ধরনের যোগ্যতাই তার আছে।’


