বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নিরাপত্তার অজুহাত: বন্ধ রয়েছে রাজধানীর ইংরেজি মাধ্যম স্কুল

07042014080103গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর পেরিয়ে গেছে এক মাসেরও বেশি সময়। অথচ নিরাপত্তার অজুহাতে এখনও খোলা হয়নি রাজধানীর বেশির ভাগ ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। তাই টানা বাসায় থেকে শিশু কিশোররা হাঁপিয়ে উঠেছে বলে জানান অভিভাবকরা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবন নিয়েও শঙ্কিত তারা।

নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলো বন্ধ রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ জানা নেই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলস এসোসিয়েশনেরও।

রোববার সকাল রাজধানীতে অবস্থিত নামকরা প্রায় সব ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে গিয়ে দেখা যায় একই অবস্থা। ভিতরে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশেও জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। বার বার তারিখ পরিবর্তন করেও এখন পর্যন্ত বন্ধ থাকা কোনো স্কুলই খুলতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

মূলত গত মাসে দেশে পরপর দুইটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা পরই নিরাপত্তার কথা বলে এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। যার ফলে এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন কিছুটা হলেও বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের কথা বিবেচনা করে দ্রুতই এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ, সরকার উভয়কে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

কবে নাগাদ এসব স্কুল খোলা হবে, আর কেনই বা টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে সে প্রশ্নের উত্তর দিতেও রাজি নন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বৈঠক করতে স্কলাস্টিকা, মাস্টারমাইন্ড স্কুলসহ নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বার বার ডাকলেও তারা আসেননি বলে জানিয়েছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলস এসোসিয়েশন।

বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলস এসোসিয়েশন (বেমসা) সাধারণ সম্পাদক জি. এম . নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘এই জঙ্গি সমস্যা এখন সারা দেশে। যেসব দেশে এই সব সমস্যা হচ্ছে সেসব দেশে-তো কোনো স্কুল বন্ধ করা হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের দেশে এই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বন্ধ করে দেয়ার কোনো কারণ দেখছি না।’

এদিকে প্রথম সারির বেশির ভাগ ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বন্ধ থাকলেও কিছু স্কুলের ক্লাসসহ সব কার্যক্রম চলছে স্বাভাবিক ভাবেই।

একাডেমিয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেভাবে আমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে সেখানে আমাদের আতঙ্ক হওয়ার কিছু দেখছি না। আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই আমরা ক্লাস পরিচালনা করছি।’

দেশে এ মুহূর্তে তিন শতাধিক ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশুনা করছে তিন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন