বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাইকে হত্যার হুমকি

Kader Brotherসড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম এ কথা জানান। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রাজাপুর গ্রামে পরিবার নিয়ে থাকেন মন্ত্রীর ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা।

প্রসঙ্গত, আবদুল কাদের মির্জা নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তার বসত-বাড়ির ঘরের চালায় ঢিল নিক্ষেপের শব্দ হয়। তিনি বাড়ির গৃহ পরিচারিকা জান্নাতুল ফেরদৌস লিমাকে বিষয়টি দেখার জন্য পাঠান।

বাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে লিমা দেখেন, ঘরের পেছনে কালো মুখোশ পরা অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি ছোরা হাতে দাঁড়িয়ে আছে। কে কে বলে চিৎকার করতে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘রাতে আমরা মেয়রকে হত্যা করার জন্য আসব, দরজা খুলে দিবা না হলে তোমাকেও হত্যা করব’। এ সময় লিমা চিৎকার দিয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়েন।

জানা গেছে, সোমবার রাত নয়টায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ০১ নং ওয়ার্ডের বড় রাজাপুর গ্রামে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নিজ বাড়িতে তার ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার ঘরের ছাদে কে কারা ঢিল ছুড়ে। এ সময় তার বাসার কাজের মেয়ে লিমা (১৫) ঘরের ছাদে একটি ইট দেখতে পায়। সে দ্রুত নেমে ঘরের পিছনে গিয়ে দেখতে পায় মুখোশ পরা কালো পোশাকধারী একজন ব্যক্তি অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে। ওই ব্যক্তি লিমার দিকে তাকিয়ে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নাম ধরে বলতে থাকে ‘রাতে আমি তাকে হত্যা করবো। তুই রাতে দরজা খোলা রাখবি, যদি না রাখিস তাহলে তোকে হত্যা করা হবে।’ এ সময় লিমা চিৎকার করলে বাড়ির লোকজন বের হলে ওই সন্ত্রাসী দ্রুত পালিয়ে যায়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আবদুল কাদের মির্জার আত্মীয় স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মী, পুলিশ, ডিবি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার বাসায় ছুটে যান। রাত ১০টায় সংবাদকর্মীরা আবদুল কাদের মির্জার বাসভবনে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এ ঘটনায়  এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি।

ওই ঘটনার পরপর ওই বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল।

আরও পড়ুন