বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নেতা অলিউল্লাহ হত্যায় ৬ জনের ফাঁসির আদেশ

Law-TOPদুই বছর আগে চাঁদপুরের কচুয়ায় কৃষক লীগ নেতা অলিউল্লাহ হত্যা মামলায় ছয় জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে চট্টগ্রামের আদালত। মঙ্গলবার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মুহিতুল হক এনাম চৌধুরী এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি আইয়ুব খান বলেন, রায়ে বিচারক চার আসামিকে বেকসুর খালাসের আদেশ দিয়েছেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহতের ভাতিজা আবদুল হামিদ মৃধা, আবদুল কাদের মৃধা ও হারুন মৃধা এবং মেহেদী হাসান ওরফে শাকিল, মো. গৌরব ও নাজমুল হাসান ওরফে শারফিন। এদের সবাই পলাতক।

আর খালাস পেয়েছে আখতার হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন, জাকির হোসেন ও আবু তাহের।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আইয়ুব বলেন, “৩০২ ধারায় করা অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আদালত ছয় জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৯ জুলাই রাতে কচুয়া উপজেলার শংকরপুর গ্রামে নিজ বাড়ির পশ্চিমে রাস্তার উপর উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি অলিউল্লাহ মৃধাকে (৫২) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

তার স্ত্রী জয়নব বেগম বাদী হয়ে ঘটনার পর দিন আবদুল হামিদ মৃধাকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০১৫ সালের ৩১ মার্চ পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার পর চলতি বছর ৬ জানুয়ারি চাঁদপুরের আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এরপর মামলাটি বিচারের জন্য চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আসে। মামলায় ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আদালত রায় দেয়।

রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে শুধুমাত্র খালাস পাওয়া আবু তাহের উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদি জয়নব রায় ঘোষণার পর বলেন, “আমার স্বামী আওয়ামী লীগের রাজনীতি করত। তিনি উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ছিলেন।

“আসামিরা বিএনপির রাজনীতি করত। ২০০১ সালে একবার আমার স্বামীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। সেবার অনেক টাকা খরচ করে তাকে বাঁচিয়েছিলাম। এবার আর বাঁচাতে পারিনি।”

জয়নব জানান, আসামিদের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল, রাজনীতি নিয়েও ছিল। এজাহারে শুধু জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ আছে।

“আসামিদের মধ্যে তিন জন আমার স্বামীর চাচাত-জ্যাঠাত ভাইয়ের ছেলে।”

আরও পড়ুন