গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা মেইলের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকসহ তিনজনকে রিমান্ডে নিতে পুলিশের আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠাতে বলেছে আদালত।
পুলিশের আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম গোলাম নবী মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। পল্লবী থানার এসআই মিজানুর রহমান এদিন বাংলামেইলের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাহাদাত উল্যা খান, নির্বাহী সম্পাদক মাকসুদুল হায়দার চৌধুরী ও স্টাফ রিপোর্টার প্রান্ত পলাশকে আদালতে হাজি করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড নেওয়ার অনুমতি চান।
অন্যদিকে এর বিরোধিতা করে আসামিদের জামিনের আবেদন করেন তাদের আইনজীবী মুবিনুল ইসলাম ও প্রিয়লাল সাহা। মুবিনুল শুনানিতে বলেন, “যে সংবাদটি নিয়ে ফেইসবুকে হই চই হচ্ছে, তা রাষ্ট্রের স্বার্থে পরিবেশন করা হয়েছিল। কিন্তু র্যাব সেটা বুঝতে পারেনি। কথিত এক নিউজ পোর্টালে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল সেটি ছিল একটি মিথ্যা সংবাদ। সরকার, প্রধানমন্ত্রী বা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে খাটো করার কোনো উদ্দেশ্য আমার মক্কেলদের ছিল না।”
শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড আবেদন নাকচ করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান মুবিনুল। এ মামলায় জামিনের শুনানি কেবল সাইবার ট্রাইব্যুানালে হতে পারে। এ কারণে বিচারক কেবল রিমান্ড আবেদনের শুনানি করেছেন, জামিন শুনানি হয়নি।”
‘টুডেনিউজ৭১ ডটকম’ নামের এক পোর্টালে প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ভুয়া খবর ছাপা হয়েছিল, যা গুজব ছিল বলে বাংলামেইল রোববার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
এরপর র্যাব-৩ এর একটি দল রোববার গভীর রাতে কাকরাইলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে গিয়ে সাহাদাত, মাকসুদুল ও পলাশকে নিয়ে যায়।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক খন্দকার গোলাম সারোয়ার সে সময় বলেছিলেন, “গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাদের র্যাব কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এদিকে সোমবারই বাংলামেইলের নয়জন সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করে সরকার। রাতে বাংলামেইলের ওয়্সোইট বন্ধ পাওয়া যায়। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করে র্যাব।
আটক তিনজন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমকে এ মামলায় আসামি করা হয়। এজাহারে তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
আজিম গ্রুপের মালিক ফজলুল আজিম বিএনপি ছেড়ে নবম সংসদে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হন। পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি তিনি।


