সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে কেন জামিন দেওয়া হবে না -তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় আরিফুল কারাগারে আছেন।
আরিফুলের করা জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার বেঞ্চ এ রুল দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ জানান।
তিনি বলেন, “হত্যা মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ওই রুল দিয়েছে।”
আরিফুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যেরবাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলার শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, পরে ঢাকা নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
ঘটনার পরদিন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন।
প্রথমে সিআইডির এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২০ মার্চ অভিযোগপত্র দেন।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আদালতের নির্দেশে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম এ মামলার অধিকতর তদন্ত করে ২০১১ সালের ২০ জুন আরও ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ২০১১ সালের ২৮ জুন কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া অভিযোগপত্রের ওপর বিচারিক আদালতে নারাজি আবেদন করেন।
২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন গ্রহণ করে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডির এএসপি মেহেরুন নেছা ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন।
সব মিলিয়ে মামলায় আসামির সংখ্যা ৩৫ জনে দাঁড়ায়। ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর ওই ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
আরিফুল হক ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর বিচারিক আদালতে আত্নসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। পরে নিম্ন আদালতে আরিফুল হকের জামিন নামঞ্জুর হলে তিনি উচ্চ আদালতে আসেন।
তার আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের শেষ দিকে হাই কোর্ট রুল দেয়।
আরিফুল হকের মায়ের অসুস্থতা বিবেচনায় চলতি বছরের ২২ মার্চ হাইকোর্ট ১৫ দিনের জন্য তাকে জামিন দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আরিফুল হক আত্মসমর্পণ করে জামিন চান, সেদিন আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এই আদেশের বিরুদ্ধে আরিফুল জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন, যা মঙ্গলবার শুনানির জন্য ওঠে।
এর আগে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি আরিফুল হককে মেয়রের পদ থেকে সাময়িক ভাবে বরাখাস্ত করা হয়।


