নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’।
জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
আপনার জিজ্ঞাসা অনুষ্ঠানে সহবাসের পর ফরজ গোসলের সময়সীমা সম্পর্কে টেলিফোনে পাবনা থেকে জানতে চেয়েছেন মিজানুর রহমান। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।
প্রশ্ন : সহবাসের কতক্ষণ পর ফরজ গোসল দিতে হয়? এ রকম কোনো সময়সীমা আছে কি?
উত্তর : না, সহবাসের কতক্ষণ পর গোসল করতে হবে, তার কোনো সময়সীমা নির্ধারিত নেই। তবে নবী করিম (সা.)-এর আমল এবং সালফে সালেহিনের আমল মতে, যত দ্রুত সম্ভব ফরজ গোসল করাটাই হলো সুন্নাহ। এটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই যত দ্রুত সম্ভব ফরজ গোসল আদায় করা উচিত।
প্রসঙ্গত, ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অসংখ্য মুসলিম ভাই- বোনের সালাত সহ নানা আমল কবুল হয় না। যেটা ঈমানের ক্ষেত্রে চরম ভয়ানক ব্যাপার।
যে সব কারণে গোসল ফরজ হয়ঃ
১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে।
২. নারী-পুরুষ মিলনে (সহবাসে বীর্যপাত হোক আর নাই হোক)।
৩. মেয়েদের হায়েয-নিফাস শেষ হলে।
৪. ইসলাম গ্রহণ করলে(নব-মুসলিম হলে)।
আবার কেউ কেউ মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া ফরজ বলে উল্লেখ করেছেন। এই কথার দলীল হচ্ছে, নবি [সা.] -এর কন্যা যয়নবকে যারা গোসল দিচ্ছিলেন, তিনি তাদেরকে বললেন, যয়নবকে তিনবার গোসল করাও, অথবা পাঁচবার অথবা সাতবার অথবা এর চাইতে অধিকবার- যদি তোমরা তা মনে কর। [বুখারি, অধ্যায় : জানাযা, অনুচ্ছেদ : মৃতকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল দেয়া ও অজু করানো। হা/১২৫৩। মুসলিম, অধ্যায় : জানাযা, অনুচ্ছেদ : মৃতকে গোসল দেয়া, হা/৯৩৯।]
তাছাড়া বিদায় হজে আরাফা দিবসে জনৈক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় বাহন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু বরণ করলে নবি [সা.] বলেন, তোমরা তাকে পানি ও বরই পাতা দ্বারা গোসল দাও এবং পরিহিত দু’টি কাপড়েই কাফন পরাও। [বুখারি, অধ্যায় : জানাযা, অনুচ্ছেদ : ইহরামকারী মৃত ব্যক্তিকে কিভাবে কাফন পরাতে হয়। হা/ ১২৬৭। মুসলিম, অধ্যায় : হজ, অনুচ্ছেদ : ইহরামকারী মৃত্যুবরণ করলে কি করতে হবে। হা/১২০৬।]
মৃত্যু ব্যক্তিকে গোসল করানো ফরজ। কিন্তু এটা জীবিতের সাথে সম্পর্কিত। কেননা মৃত্যু বরণ করার কারণে উক্ত ব্যক্তির উপর শরীয়তের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে গেছে। তাই জীবিতদের উপর ফরজ হচ্ছে, তাকে গোসল করিয়ে দাফন করা। কেননা নবি [সা.] এ সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন।
ফরজ গোসলের সঠিক নিয়মঃ
১. গোসলের জন্য মনে মনে নিয়্যাত করতে হবে। বাড়তি মুখে কোন আরবি শব্দ উচ্চারণ করে নিয়্যাত করা বিদ’আত।
২. প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুতে হবে।
৩. এরপর ডানহাতে পানি নিয়ে বামহাত দিয়ে লজ্জাস্থান এবং তার আশপাশ ভালো করে ধুতে হবে। শরীরের অন্য কোন জায়গায় বীর্য বা নাপাকি লেগে থাকলে সেটাও ধুতে হবে।
৪. এবার বামহাতকে ভালো করে ধুইয়ে পেলতে হবে।
৫. এবার ওজুর নিয়মের মত করে ওজু করতে হবে তবে দুই পা ধুয়া যাবে না।
৬. ওজু শেষে মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে
৭. এবার সমস্ত শরীর ধোয়ার জন্য প্রথমে ৩ বার ডানে তারপরে ৩ বার বামে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুতে হবে, যেন শরীরের কোন অংশই বা কোন লোমও শুকনো না থাকে। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গায় পানি দিয়ে ধুতে হবে।
৮. সবার শেষে একটু অন্য জায়গায় সরে গিয়ে দুই পা ৩ বার ভালোভাবে ধুতে হবে।
মনে রাখতে হবেঃ
১. পুরুষের দাড়ি ও মাথার চুল এবং মহিলাদের চুল ভালোভাবে ভিজতে হবে।
২. এই নিয়মে গোসলের পর নতুন করে আর ওজুর দরকার নাই, যদি ওজু না ভাঙ্গে।


