বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

২১ অাগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় সেপ্টেম্বরে

photo-1435765139একুশ আগস্ট আলোচিত গ্রেনেড হামলার মামলাটির রায় দুই মাসের মধ‌্যে হবে বলে সংসদীয় কমিটিকে আশ্বস্ত করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এই মামলায় খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাও আসামি।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটসরকারের আমলে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিতের চেষ্টার পর ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে সিআইডি অভিযোগপত্র দেওয়ার পর বিচার শুরু হয়।

এরপর অধিকতর তদন্ত পেরিয়ে বর্তমানে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার আদালতে মামলাটির সাক্ষ‌্যগ্রহণ চলেছে। গত ৯ অগাস্ট তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল কবীরকে জেরা শেষ হয়েছে।

অধিকতর তদন্তের কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দের জবানবন্দি ও জেরা শেষ হলে সাক্ষ‌্যগ্রহণের ইতি টানা হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন। এরপর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে হবে রায়।

বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই মামলাটি আলোচনায় ওঠার পর আইনমন্ত্রী সেপ্টেম্বরে রায়ের আশা দেন বলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানিয়েছেন।

সুরঞ্জিত বলেন, “আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির একটি অনুশাসন রয়েছে প্রত্যেক মাসে গ্রেনেড হামলা মামলার অগ্রগতি অবহিত করতে হবে। সে হিসাবে আইনমন্ত্রী আজকের বৈঠকে জানিয়েছেন, মামলার ২২৪ তম সাক্ষীর জেরা চলছে। দুজনের বাকি রয়েছে।”

কবে নাগাদ রায় হতে পারে- এ প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, “এখন তো অাগস্ট মাস, আশা করছি সেপ্টেম্বরে হবে।”

মামলার আসামিদের মধ‌্যে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা প্রাক্তন বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও প্রাক্তন ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে রয়েছেন।

অন্যদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, প্রাক্তন উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২৫ জন কারাগারে।

বিএনপির জ‌্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম‌্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস‌্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ আসামি পলাতক।

২০০৪ সালের ২১ অাগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন।

হামলায় গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন কয়েক শতাধিক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়।

আরও পড়ুন