বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘বঙ্গবাহাদুর’কে ঘিরে উৎসবের আমেজ

16080612341nocreditবৃহস্পতিবার একটা সময় হাতিটার বেঁচে থাকা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নিজের পায়ে উঠে দাঁড়াতে পারবে কি-না সে ভয়ও করছিলেন বনবিভাগের কর্মীরা। তবে সে অবস্থা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠে শুক্রবার সে দিব্যি খাওয়া-দাওয়া করছে।

প্রতিবেশী ভারতের আসাম থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে, একমাসের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানো হাতিটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে একাধিকবার নাস্তানাবুদ হয়েছেন বন কর্মকর্তারা। সেই বনবিভাগের কর্মকর্তারাই হাতিটার নামকরণ করেছেন‘বঙ্গবাহাদুর’। অার তাকে ঘিরে এখন গ্রামটিতে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।

বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, গতকাল হাতিটিকে উদ্ধারের জন্য ট্রাঙ্কুলাইজারের সাহায্যে বেহুঁশ করার পর সেটি পানিতে পড়ে গেলে গ্রামবাসীর সহায়তায় বিশাল-দেহী হাতিটিকে রশি দিয়ে বেধে টেনে তোলা হয়।

তিনি জানান, “এরপর কাদামাটির মধ্যে পড়ে থাকা হাতিটি শেষপর্যন্ত উঠে দাঁড়াতে পারবে কি-না সেই আশঙ্কা ছিল। পরে মাহুতরা হাতির পায়ের শেকলের বাঁধন খুলে দেন। এরপর গাছ দিয়ে হাতিটিকে টেনে তোলার চেষ্টা চালানো হয়। পরে রাতে উঠে দাঁড়ায় হাতি। আজ তাকে কলা গাছ, বাঁশ পাতা, ইক্ষু গুড়ও খাওয়ানো হয়”।

তবে হাতিটা যেন কোনোভাবে বাঁধন খুলে চলে যেতে না পারে সেজন্য হাতির পেছনের পায়ে শেকল দিয়ে গাছের সাথে বেধে রাখা হয়েছে।

মিস্টার মল্লিক জানান, উপ-প্রধান বন সংরক্ষক তপন কুমার দে সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হাতিটিকে ‘বঙ্গ-বাহাদুর’ নামে অভিহিত করা হয়।

তিনি বলেন, “হাতিটা যেহেতু প্রতিবেশী আসাম থেকে এসেছে, তাদের সাথে আমাদের সখ্য আছে তারাও বাঙ্গালি আমরাও বাঙ্গালি। আর এত দীর্ঘ সময় ধরে এত পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে হাতিটা, সেজন্য তাকে বাংলার বীর বা বঙ্গ-বাহাদুর নাম দেয়া হয়েছে”।

হাতিটাকে কখন কিভাবে সরিয়ে নেয়া হবে এ প্রসঙ্গে মিস্টার মল্লিক বলেন, হাতিটাকে বেহুঁশ করার পর যে অবস্থা হয়েছে, তাতে এটাকে আবারও একই পদ্ধতিতে সরানোর চিন্তা করছেন না তারা।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে দুয়েকটা হাতি এনে বন্যহাতিটার সাথে সখ্যতা তৈরির চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। এরপর হাতিটাকে হাঁটিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন তারা।

এদিকে সরিষাবাড়ির কয়রা নামে যে গ্রামে হাতিটা আছে সেখানে হাতিটাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ঈদের আমেজ। আসামে বন্যার পানিতে ভেসে ভেসে জুন মাসের শেষে বাংলাদেশে আসে ‘বঙ্গবাহাদুর’। একটি অজপাড়া গাঁ হলেও এখন সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত মানুষের সমাগম।

আশ-পাশের এলাকা থেকে আসা মানুষের ভিড় এতটাই যে পিঠা, পান-সুপারি, চা ইত্যাদি বিক্রিও শুরু হয়ে গেছে সেখানে।

আরও পড়ুন