বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

অনেকেই নতুন নতুন গল্প বানাতে ব্যস্ত: বাবুল


NEWSWORLDBD.COM - August 14, 2016

SP Babul Wifeস্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর পার হয়েছে দুই মাসের কিছু বেশি সময়। স্ত্রী হত‌্যা মামলায় নাটকীয় জিজ্ঞাসাবাদের পর দীর্ঘ সময় গণমাধ‌্যমের সকল প্রশ্নে নীরব ছিলেন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। তবে নিজের ফেসবুক পাতায় মনোবেদনার কথা লিখে সেই নীরবতা ভেঙেছেন তিনি।

শনিবার স্ত্রীর অতীত স্মৃতি রোমান্থন করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখেছেন এসপি বাবুল।

পাঠকের জন্য তার ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হল।

“এক সুন্দর দিনে সাধারণ এক কিশোরী বউ হয়ে আমার জীবনে এসেছিল। ঘর-সংসার কী অত বুঝত সে তখন? তাকে বুঝে উঠার সবটুকু সাধ্য হয় নি কখনও। কারণ সদাহাস্য চেহারা যার, তার অন্যান্য অনুভূতি ধরতে পারাটা কঠিন।

তারপর যুগের শুরু। এক কিশোরীর নারী হয়ে উঠার সাক্ষী আমি। ছোট ছোট আবদার আর কথাগুলো ক্রমেই দিক পাল্টালো। হাতের নখের আকার পাল্টে গেল আমার খাবারটুকু স্বাস্থ্যকর রাখার জন্য। ঘরের চারপাশে ছড়িয়ে মিশে গেল তার চব্বিশঘণ্টা, মাস, বছর এবং যুগ।

রাতের পর রাত কাজ থেকে ফিরে দেখতাম, মেয়েটি ক্রমেই রূপ হারাচ্ছে রাত জেগে আমার অপেক্ষায় থেকে থেকে। হয়ত ভালোবাসার চেয়ে স্নেহই ছিল বেশি। প্রথম সন্তানের জন্মের পর যেন সে স্নেহের ডালপালা ছড়ালো। নিজেকে এত যত্ন পাওয়ার যোগ্য আমার কখনই মনে হয়নি। পোশাক থেকে খাবার, কাজ থেকে ঘুম সবকিছুতেই মায়া। কাজের মাঝে বুদ হয়ে থাকা এই আমির সব পারিবারিক দায়িত্ব সে পালন করতে করতে সবার কাছে আমার নাম মানেই হয়ে উঠে তার অবয়ব। ততদিনে হয়ত সংসার বুঝে গিয়েছে সে। মেয়ে আসলো কোলজুড়ে। দেখতে অবিকল মায়ের মত। সবকিছু জেঁকে ধরে কিশোরীটিকে নারী বানালো। কিন্তু ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র বিষয়ে তার শিশুসুলভ উচ্ছ্বাসের সাক্ষী আমি। আমার সামান্যতম ক্ষতির আশঙ্কায় তার কেঁদে অস্থির হওয়ার সাক্ষী আমি। মেয়েটি কী আসলেই সংসার বুঝেছিল ততদিনে? কারণ আমি জানি আমি সংসার তখনও বুঝিনি।

এরপর অনেকগুলো দিন কেটে গেল আমার, আমাদের জীবনে। নেহায়েত সাধারণ কিশোরীটি তখন নারী। ততদিনে সাধারণ মানুষটির ছোয়ায় আমার জীবন অসাধারণ। তখন সে সংসার বোঝে। কিন্তু আমি বুঝিনা, এতেই কী এত ক্ষোভ ছিল তার? এতবেশি ক্ষোভ যে ছেড়েই চলে গেল?

নির্ঝঞ্ঝাট সংসার হয়ত কোন দেবদূতেরও থাকে না। সে জায়গায় আমি তো সংসারই বুঝতাম না। কিন্তু সে সব বুঝতো। আগলে ছিল আমাকে। সে চলে গেল, কিন্তু আমার যাওয়ার উপায় রাখল না। সন্তান দুটো আমার বেচেঁ থাকার বাধ্যবাধকতা। না হয় হয়ত পিছু নিয়ে জানতে চাইতাম, এভাবে যাওয়ার কারণটা। তারপর জীবনের শেষ মৃত্যুতে, না কী মৃত্যুতেই মুক্তি; এই বিশাল বাস্তবতা এসে চাপল আমার ঘাড়ে। শরীর থেকে মাথা কাটা পড়ার অনুভূতি কী এই জীবন মেনে নেওয়ার চেয়েও ভয়ঙ্কর? যার সবটুকু শেষ হয়ে যায় তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার কিছু থাকে না। তবুও আমার কাছ থেকে আরও কী যেন চান স্রষ্টা ও সৃষ্টি! তারাই সব বলেন!

গোলকধাঁধার মারপ্যাঁচ বুঝার বয়স কী হয়েছে মায়ের মৃত্যুর সাক্ষী ছেলেটার? তার প্রশ্নগুলো সহজ, কিন্তু উত্তর দেওয়ার মত শব্দ দুষ্প্রাপ্য। যখন মা হারানো মেয়েটার অযথা গড়াগড়ি দিয়ে কান্নার শব্দ কেবল আমিই শুনি, তখন অনেকেই নতুন নতুন গল্প বানাতে ব্যস্ত। আমি তো বর্ম পড়ে নেই, কিন্তু কোলে আছে মা হারা দুই শিশু। আঘাত সইতেও পারি না, রুখতেও পারি না।

এরপর আর কোন ভোর আমার জীবনে সকাল নিয়ে আসেনি। সন্তান দুটো এবং আমি আর স্নেহের ছায়ায় ঘুমাইনি।এরপরই আমি বুঝেছি সংসার কী। সংসার মানে তুমি ।”

গত ৫ জুন চট্টগ্রামে বন্দুকধারীদের গুলিতে খুন হন মিতু। তাৎক্ষণিকভাবে একে জঙ্গি হামলা হিসেবে ধরা হয়েছিল। পরে জানা যায়, এটা জঙ্গিদের কাজ নাও হতে পারে। আর স্ত্রী হত্যার ঘটনায় বাবুলকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এই খুনে বাবুল জড়িত- গণমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশ হয়েছে। তবে পুলিশ কখনও এটা নিশ্চিত করেনি।

তবে মিতু হত্যার আগে ঢাকায় বদলি হয়ে আসা বাবুল দীর্ঘদিন ধরে অফিস করছেন না। তবে তার ছুটি শেষ হয়ে গেছে- এটা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। অফিস না করায় তাকে নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বাবুলও গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন। মাঝেমধ্যে তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বললেও ইদানিং তিনিও কিছু বলছেন না।

সম্প্রতি বাবুল আক্তার পুলিশ সদরদপ্তরে এসেছিলেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে তিনি কেন এসেছিলেন তা জানায়নি বাহিনীটি।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.