সোহন নামে ওই যুবকের কাছে একটি দামি মোটরবাইক ছিল। সম্প্রতি সেই বাইকটি বিক্রি করে আরও দামি একটি বাইক কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন ওই যুবক।
অনলাইনে জিনিস বিক্রি করার কথা ভাবছেন? ক্রেতা হিসেবে যাঁরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তাঁদের সঙ্গে দেখা করার আগে অবশ্যই সতর্ক হন। কারণ, বেঙ্গালুরুতে বসবাসকারী এক বাঙালি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের করুণ পরিণতির পরে অনলাইনে জিনিস কেনাবেচা কতটা নিরাপদ, তা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ অনলাইনে নিজের মোটরবাইক বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই খুন হয়ে যান এই যুবক।
সোহন হালদার নামে ওই যুবকের কাছে একটি দামি মোটরবাইক ছিল। সম্প্রতি সেই বাইকটি বিক্রি করে আরও দামি একটি বাইক কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন ওই যুবক। সেই জন্য ফেসবুকে একটি বিজ্ঞাপনও দেন তিনি। সেই বিজ্ঞাপন দেখে সোহনের সঙ্গে কার্তিক নামে এক যুবক যোগাযোগ করে। গত ২৭ জুলাই বাইক বিক্রি করতে চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন সোহন। ১ আগস্ট তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্তিক। এর দু’দিন পরে সোহনের ফ্ল্যাটে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন কার্তিক। এর তিন দিন পরে সোহনের ফ্ল্যাট থেকে তাঁর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ফ্ল্যাটে আসার পরে কার্তিক সোহনের সঙ্গে আলাপ জমায়। এর পরে সোহনকে সিগারেট দেয় কার্তিক। সোহন যখন ধুমপানে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই সময় আচমকাই সোহনের মুখের ভেতরে সিলভার পটাসিয়াম গুঁজে দেয়। সোহন আচ্ছন্ন হয়ে পড়তেই তাঁর শরীরের উপর দিয়ে একটি বিছানার চাদর জড়িয়ে দেয় ওই দুষ্কৃতি। বিষাক্ত ধোঁয়ায় দম আটকে মৃত্যু হয় সোহনের। সেই সুযোগে সোহনের বাইকের চাবি, হেলমেট এবং ডেবিট কার্ড নিয়ে পালিয়ে যায় কার্তিক। সোহনের ডেবিট কার্ডের কভারে পাসওয়ার্ডও লেখা ছিল।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এবং ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীদের জবানবন্দি থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয়, যে মৃত্যুর আগে কার্তিকের সঙ্গেই শেষবার দেখা হয়েছিল সোহনের। এর পরেই কার্তিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোহনের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে আরও তিনজন থাকতেন। প্রাথমিকভাবে তাঁদের উপরে সন্দেহ হলেও পুলিশ জানতে পারে, কার্তিকই আসল অপরাধী। তার নামে অতীতে একাধিক অপরাধের রেকর্ডও পেয়েছে পুলিশ। অনলাইন সাইটে কেনাবেচার অনেক ইতিবাচক দিক আছে নিশ্চয়ই। কিন্তু এই ঘটনার পরে প্রত্যেকেরই সচেতন হওয়া উচিত।


