বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

কুকুর লেলিয়ে হিমুকে হত্যা: ৫ ঘাতকের ফাঁসি

হিমু-হত্যা-মামলার-রায়-আগামীমাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় চট্টগ্রামে কুকুর লেলিয়ে ছাদ থেকে ফেলে শিক্ষার্থী হিমাদ্রী মজুমদার হিমুকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামির সবাইকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত।

চার বছর আগের চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় রোববার ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নুরুল ইসলাম।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপম চক্রবর্ত্তী রায়ের পর বলেন, “৩০২/৩৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত পাঁচজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছে।”

সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন- জাহিদুর রহমান শাওন, জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ, তার বাবা শাহ সেলিম টিপু, শাহাদাত হোসেন সাজু ও মাহবুব আলী ড্যানি।

এদের মধ্যে শাওন জামিন নিয়ে এবং রিয়াদ মামলার শুরু থেকেই পলাতক। কারাগারে থাকা টিপু, সাজু ও ড্যানি রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন বলে অনুপম চক্রবর্তী জানান।

নিয়ম অনুযায়ী আসামিরা সাত দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। তবে পলাতক আসামিদের সেই সুযোগ পেতে হলে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল বন্দরনগরীর পাঁচলাইশ এলাকার সামারফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে হিমুকে ধরে নিয়ে যায় আসামি শাওন, রিয়াদ, সাজু ও ড্যানি। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ‘এ’ লেভেল পাস করা হিমুর বয়স তখন ১৮ বছর।

আসামিরা তাকে ধরে পাঁচলাইশ এলাকায় রিয়াদের বাবা ব্যবসায়ী টিপুর বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে আটকে রেখে মারধরের পর হিংস্র কুকুর লেলিয়ে ও ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দেওয়া হয় ছাদ থেকে। হাসপাতালে ২৬ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই বছরের ২৩ মে মৃত্যু হয় হিমুর।

হিমু খুনের ঘটনায় তার মামা শ্রীপ্রকাশ দাশ বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় এই হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১২ সালের ৩০ অক্টোবর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রায় দেড় বছর পর ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে পাঁচ আসামির বিচার শুরু করে আদালত। ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।

হিমুর মামা শ্রীপ্রকাশ আদালতে তার সাক্ষ্যে বলেন, স্থানীয় মাদকবিরোধী সঙ্গঠন শিকড়ের সদস্য ছিলেন হিমু। আর এ মামলার আসামিরা মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর শিকড়ের পক্ষ থেকে এম ইসমাইল নামের একজন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করলে ওই সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে আসামিদের বিরোধের সূত্রপাত হয়।

মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ার কারণেই কুকুর লেলিয়ে  হিমুকে হত্যা করা হয় বলে  আদালতে বলেন শ্রীপ্রকাশ।

রাষ্ট্রপক্ষে ২০ জনের সাক্ষ্য শুনে আদালত রায়ের জন্য  প্রথমে ২৮ জুলাই ও পরে ১১ অগাস্ট দিন রাখে। দুই দফা পেছানোর পর অবশেষে রোববার পাঁচ আসামির সাজা ঘোষণা করেন বিচারক।

আরও পড়ুন