বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ব্রাজিলে এসে বুঝলাম আমি কিছু না: গলফার সিদ্দিকুর

bangladesh_golfer_siddikur_rahmanঅলিম্পিকে নামার আগেই বড় অর্জন হয়ে গিয়েছিল সিদ্দিকুর রহমানের। কিন্তু সেখানেই থামতে চাননি এই গলফার। অলিম্পিকের লড়াইয়েও দেশের জন্য বাড়তি কিছু এনে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সফল হননি।

রিও থেকে ঢাকায় ফেরার পথে সোমবার টেলিফোনে ঢাকার একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি নিজের অলিম্পিক অভিজ্ঞতা নিয়ে…

প্রশ্ন : আপনি নিজেই যেমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন, অলিম্পিকে তা তো পূরণ হলো না…
সিদ্দিকুর রহমান : না হয়নি, সত্যি। কিন্তু কোর্স অনুযায়ী আমার খেলা খারাপ হয়নি। অন্তত শর্ট গেম ঠিকই ছিল। কোর্স অনেক লম্বা হওয়াতেই আমার সমস্যাটা হয়ে গেছে। এটা পিজিএ ট্যুর উপযোগী কোর্স। যাতে আমরা একেবারেই অভ্যস্ত নই।

প্রশ্ন : কিন্তু দ্বিতীয় দিন ঘুরে দাঁড়ানোর পর তৃতীয় রাউন্ডে আবার কী হলো যে ছন্দটা ধরে রাখতে পারেননি?
সিদ্দিক : তৃতীয় রাউন্ডে আমার কিন্তু বার্ডিও হয়েছে। বার্ডি না করলে তো স্কোর বাড়বে না। আমি সেই চেষ্টাই করেছি। কিন্তু তাতে বোগির ঝুঁকিও থাকে। আমার বোগিও হয়েছে বেশি। তা ছাড়া কোর্স-কন্ডিশন কোনো কিছুই পক্ষে ছিল না।

প্রশ্ন : বাতাস বেশি ছিল…
সিদ্দিক : বাতাস তো ছিলই। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি হয়ে ঠাণ্ডা পড়ে যায়। আর কোর্সের দৈর্ঘ্য শুধু না, লে-আউটও বেশ জটিল। গাছ নেই, বাংকার বেশি, আমাকে বাংকার থেকেই খেলতে হয়েছে কয়েকবার।

প্রশ্ন : সব মিলিয়ে অলিম্পিক গলফ থেকে কী অভিজ্ঞতা?
সিদ্দিক : আমাকে ড্রাইভে জোর বাড়াতে হবে অবশ্যই। তা ছাড়া ইউরোপিয়ান ট্যুর বা পিজিএ ট্যুরে খেলার কথা ভাবা যাবে না। অন্তত ২০-৩০ গজ ডিসটেন্স তো বাড়াতেই হবে। এর বাইরে আমার খেলা ঠিকই আছে। আমার শর্টগেম বিশ্বমানের এটা আমি নিজেও জানি। এখন ডিসটেন্সের ঘাটতিটা নিয়েই কাজ করতে হবে।

প্রশ্ন : সেটা কি সম্ভব, আপনার পিঠের ইনজুরির বিষয় আছে, ড্রাইভে জোর দিলে তা শরীরে চাপ ফেলবে না?
সিদ্দিক : আমি এটা চেষ্টা করে যাচ্ছি বলেই তো শরীরে চাপটা পড়েছে। আর ডিসটেন্স একবারে তো বাড়ানো যাবে না। আমি ধাপে ধাপে কাজ করছি সে জন্য।

প্রশ্ন : নিজের খেলা বাদ দিয়েও তো অলিম্পিক বিরাট অভিজ্ঞতার জায়গা, সেই অভিজ্ঞতা কেমন হলো?
সিদ্দিক : সত্যি কথা বলতে এখানে এসে একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমি ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছি। একজন অ্যাথলেটের সাফল্যের পেছনে কত শ্রম, সাধনা… তা না দেখলে বোঝা যাবে না। দেশে আমি এক নম্বর গলফার, আমাকে সবাই চেনে, নিজেকে নিয়ে মাঝে মাঝে গর্বও হয়। কিন্তু এখানে এসে দেখেছি একেকজন অ্যাথলেটের লক্ষ্য কত উঁচুতে, তার জন্য কী পরিমাণ নিজেকে ঢেলে দেওয়া, সে তুলনায় আমি কিছুই না।

আরও পড়ুন