রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে পরিচালকের চারটি শূন্য পদের একটি পূরণে গত মাসে একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টকে নিয়োগের সুপারিশ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (বিএফআইডি)। এজন্য চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে গেলে ওই ব্যক্তির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে আটকে যায় তার নিয়োগ।
শুধু অগ্রণী ব্যাংক নয়, যোগ্য লোকের অভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত বেশকিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শূন্য পরিচালক পদ পূরণ করতে পারছে না সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও সরকারি-বেসরকারি যৌথ পরিচালনার বিভিন্ন ব্যাংকের ২৮টি পরিচালক পদ শূন্য রয়েছে। চলতি বছর শূন্য হতে যাচ্ছে আরো আটটি পরিচালক পদ। আর আগামী বছর খালি হবে আরো ১০টি। শূন্য থাকা পদে শিগগিরই যোগ্য লোক নিয়োগ দেয়া না হলে রাষ্ট্রায়ত্ত এসব প্রতিষ্ঠানে পরিচালক সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নয়টি পরিচালক পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে দুটি। একইভাবে খালি আছে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৩টি পদের তিনটি। এছাড়া জনতা ব্যাংকের ১৩টির মধ্যে দুটি, অগ্রণীর ১৩টি মধ্যে চারটি, রূপালীর ১৩টির মধ্যে একটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ১১টির মধ্যে একটি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ১১টির মধ্যে একটি, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পাঁচটির মধ্যে একটি ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ১৪টির মধ্যে দুটি পরিচালক পদ শূন্য রয়েছে।
এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, পরিচালকের পদ শূন্য থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এসব পদে নিয়োগে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সচেষ্ট রয়েছে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। আশা করছি, শূন্য পদে যোগ্য লোককেই নিয়োগ দেয়া হবে।
পরিচালক পদ শূন্য রয়েছে এমন ব্যাংকের তালিকায় আছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের নামও। ব্যাংকটির ১২টি পরিচালক পদের মধ্যে চারটিই খালি। এর মধ্যে সরকার মনোনীত দুটি ও আমানতকারীর মনোনীত দুটি পদ রয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে (বিডিবিএল) ১০টির মধ্যে দুটি, বেসিক ব্যাংকে ১১টির মধ্যে দুটি এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নয়টির মধ্যে একটি পরিচালক পদ শূন্য আছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে পরিচালিত আইএফআইসি ব্যাংকে সরকার মনোনীত তিনটি পরিচালক পদের একটি ও গ্রামীণ ব্যাংকের তিনটির মধ্যে একটি পরিচালক পদ শূন্য আছে। তবে পরিচালনা পর্ষদের সবগুলো পদ পূরণ রয়েছে সোনালী ব্যাংক ইউকে ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় পরিচালক নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাড়পত্র নিতে হয়। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নাম প্রস্তাব করে পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত কারো নামের ব্যাপারে যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি থাকে, তাহলে তার নিয়োগ আটকে যায়। এ কারণে অনেক সময় এসব পদে নিয়োগ দিতে বিলম্ব হয়।
যোগ্য পরিচালকের কোনো সংকট আছে কিনা বা সংকট না থাকলেও নিয়োগে দেরি হচ্ছে কেন জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুল হক। তবে তিনি বলেন, আর্থিক এসব প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের পদ খালি হওয়া এবং তা পূরণ করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সূত্রমতে, চলতি বছর আরো আটটি পরিচালক পদ খালি হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকে তিনটি, রূপালী ব্যাংকে তিনটি এবং প্র্রবাসী কল্যাণ ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে একটি করে পরিচালক পদ শূন্য হবে।
অন্যদিকে আগামী বছর বেসিক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চারটি করে এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে একটি পরিচালক পদ শূন্য হবে। চলতি বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক চেয়ারম্যানের। আর আগামী বছর শেষ হবে জনতা, অগ্রণী, বিডিবিএল ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যানের মেয়াদ।


