বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ধর্মঘটে অচল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধান ফটকে তালা

13871708_763951693707893_1375665234_n12জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ সকাল থেকে ফটকে তালা লাগিয়ে ও আগুন জ্বেলে সড়ক অবরোধ করে ধর্মঘট পালন করছেন। পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত জায়গায় আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি না মানলে আগামী রোববারও ধর্মঘট হবে বলে জানান তাঁরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতা কর্মীরা। ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল আমিন বলেন, দাবি আদায় না হলে আগামী রোববারও সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করা হবে। পরদিন সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করা হবে।

শিক্ষার্থীরা আজ সকাল আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ তিনটি ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকেও তালা লাগানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ভেতরে ঢুকতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগেই ক্লাস ও পরীক্ষা হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীরা সকাল নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের জনশন রোডে ১৫ থেকে ২০টি টায়ারে আগুন জ্বেলে দেন। রায়সাহেব বাজার থেকে সদরঘাট সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ইমরুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছ ১০ বছর। কিন্তু আজ পর্যন্ত প্রশাসন একজন শিক্ষার্থীর জন্যও আবাসন ব্যবস্থা করতে পারেনি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মেস বা বাসা ভাড়া করে থাকতে হয়। সম্প্রতি জঙ্গি দমনের জন্য পুলিশ বিভিন্ন মেসে অভিযান চালাচ্ছে। এতে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হচ্ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আন্দোলনকারী আরেক শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম বলেন, পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত জায়গাটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে না দেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলতে থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীরা সকালে সব ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এতে অনেকে ভেতরে ঢুকতে পারেননি। তবে পেছনের ফটক দিয়ে কিছু শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী ভেতরে ঢুকেছেন। পরীক্ষা ও ক্লাস নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আন্দোলনের পুরো ঘটনা তিনি পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমান বলেন, গত ৮ আগস্ট কারাগারের জমিটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়ার ব্যাপারে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল সভা একমত পোষণ করেছেন। জমিটি পাওয়া গেলে জাতীয় চার নেতার নামে চারটি আবাসিক হল নির্মাণ করা হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সমস্যার সমাধান হবে।

এই কারাগারের জায়গা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বরাদ্দ দেওয়ার দাবিতে গত ২ আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে ৮ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় কারাগারের জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আরও পড়ুন