বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ হয়ে ত্রিপুরায় যাবে ভারতীয় তেলের ট্রাক

Dhaka-Photo-MOU-18-08-16আসামের বরাকে জাতীয় মহাসড়ক চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে জ্বালানি পরিবহণে সমঝোতা স্মারক সই করেছে ঢাকা ও নয়াদিল্লী। বৃহস্পতিবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সমঝোতায় বাংলাদেশের পক্ষে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং ভারতের পক্ষে ইন্ডিয়ান ওয়েল করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতীয় জেলবাহী ট্রাক ও লরি যাতায়াত করতে পারবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বলা হয়, ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ভূমিধসের কারণে আসাম থেকে ত্রিপুরাগামী সড়ক পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রিপুরা রাজ্যে ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ত্রিপুরায় জ্বালানি সঙ্কটও তীব্র হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে পরিবহন সঙ্কটসহ অন্যান্য নাগরিক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই কারণে ত্রিপুরায় জ্বালানি তেলবাহী ট্রাক-লরি চলাচলের জন্য সাময়িকভাবে মেঘালয়ের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে থেকে ত্রিপুরা সীমান্তের চাতলাপুর চেকপোস্ট পর্যন্ত সিলেট ও মৌলভীবাজারের প্রায় ১৪০ কিলোমিটার সড়ক ব্যবহারে সহযোগিতা চায় ভারত। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আলোকে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উল্লেখিত সড়ক দিয়ে ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানির তেলবাহী ট্রাক-লরি চলাচলের জন্য অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সড়ক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভারত নির্ধারিত হারে ফি দেবে বলেও সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী পেট্রোলিয়াম জাতীয় দ্রব্য যেমন মোটর স্প্রিন্ট, উচ্চ গতির ডিজেল, উচ্চতর কেরোসিন তেল এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস পরিবহন করা হবে। তিনি বলেন, ভারী বর্ষণ এবং অত্যন্ত খারাপ রাস্তার (এনএইচ৪৪) কারণে ভারতের আসাম রাজ্য থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে পেট্রোলিয়াম জাত দ্রব্য পরিবহনে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সরকারের অনুরোধে, বাংলাদেশ সরকার মানবিক দিক বিবেচনা সাপেক্ষে সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানা ব্যবহার করে পেট্রোলিয়াম জাত দ্রব্য পরিবহনের অনুমতি প্রদান করেছে। পেট্রোলিয়াম জাত দ্রব্য বহনকারী ট্রাক সমূহ ডাউকি (মেঘালয়)-তামাবিল( বাংলাদেশ)-চাটলাপুর(বাংলাদেশ)-কৈলাশ্বর (ত্রিপুরা) এই পথ ব্যবহার করবে।

এদিকে ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ভূমিধসের কারণে আসাম হতে ত্রিপুরাগামী সড়কপথ ক্ষতিগ্রস্ত হবার ফলে ত্রিপুরার সঙ্গে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ত্রিপুরা রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং সাধারণ ত্রিপুরাবাসী ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছে। জ্বালানির অভাবে ত্রিপুরার পরিবহন ক্ষেত্রেও দুরবস্থা বিরাজ করছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এই অবস্থা নিরসনে ও মানবিক কারণে আসাম হতে বাংলাদেশের আংশিক সড়কপথ ব্যবহার করে ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল ও এলপিজি পরিবহনের জন্য ভারত বাংলাদেশের সহযোগিতা চায়। প্রস্তাবানুযায়ী ভারতীয় জ্বালানিবাহী ট্রাক বাংলাদেশে তামাবিল সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে প্রবেশ করে সিলেট ও মৌলভীবাজারের প্রায় ১৪০ কি.মি. পথ অতিক্রম করে মৌলভীবাজার জেলার চাতলাপুর চেকপোস্ট দিয়ে বের হয়ে ত্রিপুরায় প্রবেশ করবে। ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল সরবরাহের পর খালি যানবাহনসমূহ বাংলাদেশের চাতলাপুর চেকপোস্ট দিয়ে পুনঃপ্রবেশ করে একই পথ ব্যবহার করে ভারতে ফিরে যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ত্রিপুরার জনগণের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধন এবং সর্বোপরি মানবিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতীয় জ্বালানি তেলবাহী ট্রাক-লরি ত্রিপুরায় সাময়িকভাবে যাতায়াত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার অনুমোদন প্রদান করেছে।

আরও পড়ুন