বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত যশোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্যও এ জেলার গুরুত্ব অনেক বেশি। অসংখ্য মানুষ এ সীমান্ত দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করেন। এ জন্য খুলনা-কলকাতা রেলপথ দ্রুত চালুর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সকালে যশোরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে তিনি যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে পৌঁছালে রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন মহারাজ স্বামী জ্ঞান প্রকাশ নন্দন গিরি তাকে স্বাগত জানান।
পরে তিনি রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন ও আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, বাংলাদেশ ও ভারত আমদানি-রপ্তানি কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানসহ ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে তিনি বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত পরিদর্শনের জন্য বেনাপোলের উদ্দেশে রওনা হন।
খুলনা-কলকাতা ট্রেন রুটের কিছু তথ্য:
খুলনা ও কলকাতা রুটের এই ট্রেনটির নাম ‘মৈত্রী-২ এক্সপ্রেস’ রাখারই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে নামকরণ চূড়ান্ত হয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে ও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রেল কর্মকর্তারা ঢাকায় এসে এ নিয়ে কথাবার্তাও সেরে গিয়েছেন।
খুলনা-বেনাপোল রেলপথে অবকাঠামোগত সব ব্যবস্থা থাকায় বাংলাদেশের দিকে কোনো সমস্যা নেই। কেননা বেনাপোল স্থল সীমান্তের একেবারে পাশ ঘেঁষেই রয়েছে রেললাইনটি। আর খুলনা- বেনাপোল রুটে দিনে সকাল-বিকাল মাত্র দুবার ট্রেন চলাচল করে। পুরো দিনই থাকে ফাঁকা।
বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত বন্দর। পেট্রাপোল থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে বনগাঁও রেলস্টেশন। দুই দেশের অধিকাংশ যাত্রী স্বল্পসময় ও অল্প খরচে কলকাতা যেতে বনগাঁও থেকে ট্রেনে চাপেন। ট্রেনের ভাড়া ২০ রুপি। সেখানে বাসের ভাড়া ২৫০ রুপি। বাসে চার ঘণ্টার আগে কলকাতা পৌঁছানো যায় না কোনোমতেই। সেখানে ট্রেনে দুই ঘণ্টার কম সময় কলকাতা পৌঁছানো যায়। যে কারণে রেলপথে চলাচলে যাত্রীরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এবার এ রেলপথ হয়ে ট্রেন চলে যাবে কলকাতার চিৎপুর স্টেশনে।
ব্রিটিশ শাসনামলে খুলনা ও কলকাতার মধ্যে সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু ছিল। কিন্তু ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় এ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতামুখী বরিশালের রেলযাত্রীরা স্টিমারে করে খুলনা আসতেন। খুলনা থেকে রেলে চেপে তারা কলকাতার শিয়ালদহ রেলস্টেশনে যেতেন। বরিশালে স্টিমারের টিকিট কেনার সময় রেলের ভাড়া একইসঙ্গে নেয়া হতো। অনুরূপ কলকাতার যাত্রীরাও একইভাবে টিকিট কিনে গন্তব্যে চলাচল করতেন।


