
মামলা করে সরকারের হাতে বেতনের টাকা তুলে দিতে মহাসড়কে চাঁদাবাজি করা সেই ওসিকে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে।
গাজীপুরে সালনা হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদকে হাইওয়ে পুলিশের সদর দফতরে ক্লোজড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি ঢাকায় চলে আসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যাপক চাঁদাবাজি, অব্যাহত যানজট, গাড়ির চালকদের অহেতুক হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ নিয়ে বুধবার নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমসহ বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিমাসে যানবাহনে মামলা দিয়ে ৩২ লাখ টাকা আদায় করতেই হবে- এমন টার্গেটের কথা তিনি জানান ওসি।
তার এসব কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ক্লোজড করে ঢাকায় হাইওয়ে পুলিশের সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।
শুধু টার্গেটকৃত টাকা আদায়ের জন্য মামলা দেয়া কতটা যুক্তিযুক্ত- এমন প্রশ্নে গাজীপুর-সালনা হাইওয়ে পুলিশের ওসি মোহাম্মদ দাউদের সাফ জবাব, ‘মামলা দিয়ে রাজস্ব আদায় না হলে সরকার কিভাবে পদ্মা সেতু বানাবে? কিভাবে আমাদের বেতন-ভাতা দেবে?’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলা করতে মহাসড়কে ট্রাক থামাতেই হবে।’
গাজীপুর সড়ক অঞ্চলে হাইওয়ে পুলিশের ৩০টি থানা ফাঁড়ি রয়েছে। এসব ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে প্রতি মাসে টার্গেটকৃত ৩২ লাখ টাকা আদায় করা হয়। তবে এই টাকা আদায় করতে গিয়ে কর্তাব্যক্তিসহ হাইওয়ে পুলিশের বেশির ভাগ সদস্য নিজেদের পকেট ভারি করে থাকেন। প্রতিদিন গড়ে যদি খাতা-কলমে ১শ’ মামলা করা হয়, সেখানে বাস্তবে গাড়ি থামানো হয় এর দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ। অবশিষ্ট গাড়ি থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা তোলা হয়। যাকে গাড়িচালকরা সহজ ভাষায় বলে থাকেন হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি। আর অভিযোগের তীর সবচেয়ে বেশি সালনা হাইওয়ে পুলিশের ওসি মোহাম্মদ দাউদের দিকে। বাড়ি ফরিদপুর হলেও তিনি সব সময় নিজেকে গোপালগঞ্জের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
ওসির কীর্তিকলাপ জানতে পড়ুন:


