জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম-সম্পাদক ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। উচ্চ আদালতের এ আইনজীবী জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেড—এসএইচবিকে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে ১০ মাসের অধিক সময় ছিলেন কারান্তরীণ। জামিনে মুক্ত হয়েই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন রাজনীতির মাঠে। তিনি এখন রাজনৈতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি উচ্চ আদালতে প্র্যাকটিস নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শাকিলা ফারজানা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাই চাইলেও রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে পারব না। এখন আগের মতোই নেতা-কর্মীদের নিয়ে দলের কর্মসূচি পালন করছি।’ জঙ্গি সংগঠন হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে ১০ মাস কারাভোগের পর ৭ জুন জামিনে মুক্ত হন উত্তর জেলা বিএনপি নেত্রী শাকিলা ফারজানা।
জামিনে মুক্ত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই হাটহাজারী বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। পরের মাসেই আয়োজন করেন ঈদ পুনর্মিলনীর। সর্বশেষ গতকাল হাটহাজারীর নিজ বাড়িতে সর্বস্তরের নেতা-কর্মী নিয়ে মতবিনিময় করেন। ওই মতবিনিময় সভায় হাটহাজারী আসন থেকে টানা চারবারের (১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনসহ) নির্বাচিত এমপি ও বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমসহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হাটহাজারী উপজেলা বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী বলেন, শাকিলা ফারজানা আগে যেভাবে দলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতেন, এখনো ঠিক একইভাবে অংশ নিচ্ছেন। উপরন্তু তিনি এখন অনেক বেশিই নেতা-কর্মীদের খোঁজখবর নেন। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে দিকনির্দেশনা দেন।
রাজনীতির পাশাপাশি উচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে বেশ পরিচিতি রয়েছে শাকিলার। অন্যান্য মামলার পাশাপাশি চট্টগ্রামের দলীয় নেতা-কর্মীদের মামলা পরিচালনা করছেন। ২০০৮ সালের পর থেকে গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া শতাধিক মামলা পরিচালনা করেছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর রাজনীতির পাশাপাশি শাকিলা ফিরেছেন আইন পেশায়ও।
জামিনে মুক্ত হয়ে এরই মধ্যে ৩৮টি মামলা লড়েছেন। চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একসময়ের পরিচিত মুখ শাকিলা ফারজানা। সংস্কৃতিমনস্ক ও আধুনিক মতধারার শাকিলা ফারজানা জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর তার সহকর্মী, পরিবারের লোকজন এবং পরিচিতদের অনেকেই অবাক হয়েছেন। তবে তখন র্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই বিএনপি নেত্রী শাকিলা ফারজানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়ে শাকিলা ফারজানা বলেন, ‘৩৮ জন আসামিকে জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য আমি টাকাগুলো নিই। তাদের জামিন করতে ব্যর্থ হয়ে টাকাগুলো তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দিই। কিন্তু দুঃখের বিষয় ওই টাকাগুলো হামজা ব্রিগেডে অর্থায়ন করেছি এমন সাজানো অভিযোগ করে আমাকে এবং আমার তিন সহকর্মী আইনজীবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট জঙ্গি সংগঠন হামজা ব্রিগেডকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা জোগান দেওয়ার অভিযোগে শাকিলাসহ চার আইনজীবীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হাটহাজারী ও বাঁশখালী থানায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। এ দুই মামলায় শাকিলা ফারজানাসহ অন্যদের আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে র্যাব। পরে দুই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এ বছরের ৭ জুন মুক্ত হন তিনি।


