বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হিন্দুদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী আইন করা হবে: হাসিনা

22-08-16-PM_Gonobhaban-18প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকার বজায় রাখার জন্য ’উত্তরাধিকার আইন’ প্রণয়ন করবে। প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের উদ্দেশে বলেন,‘আপনারা যদি একতাবদ্ধ হয়ে এই উত্তরাধিকার আইন করতে চান, আপনারাই মিলিতভাবে আইনটা করে দেবেন, যেহেতু আপনাদের ধর্ম। আমরা এটা পাশ করে দেব, তাতে কোনও সন্দেহ নেই কিন্তু এটা আপনাদেরকেই করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের যেটা সমস্যা আপনাদের কোন উত্তরাধিকার আইন নাই, সূত্র নাই-এটাতো ঠিক, একজন মারা গেলে তাঁর স্ত্রী সম্পদের উত্তরাধিকার পাবেনা বা ছেলে-মেয়ে পাবে না, সে অসহায়ের মত ঘুরে বেড়াবে। সম্পত্তি থাকতেও ভোগ করতে পারবে না, জীবন চালাতে পারবেনা, এটা হতে পারে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তাই উদ্যোগ নিয়েও আপনাদের কারো কারো বিরোধিতার কারণে থেমে গিয়েছিলাম। এটা হল বাস্তবতা।
তিনি বলেন, ‘এখন আপনারা যদি একতাবদ্ধ হয়ে এই উত্তরাধিকার আইন করতে চান, আপনারাই মিলিতভাবে আইনটা করে দেবেন, যেহেতু আপনাদের ধর্ম। আমরা এটা পাশ করে দেব, তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এটা আপনাদেরকেই করতে হবে।

শেখ হাসিনা হিন্দু সম্পদায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বলেন, আপনারা দেখেছেন আপরাদের অনেক কিছুই চাইতে হয়নি । আমরা যেটা প্রযোজন মনে করেছি তা সাথে সাথে করে দিয়েছি। আমরা যখন ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট করলাম সাথে সাথেই হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টানদের জন্য সেই কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছি। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দের বিধান রেখে আজ এ সম্পর্কিত তিনটি আইনের খসড়া মন্ত্রীসভা অনুমোদন দিয়েছে। যেটা পার্লামেন্টে পাশ হবে। এভাবেই সকলের কল্যাণেই এই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী পূজার সময় বিদেশ থেকে রাধা কৃষ্ণের মার্বেলের মুর্তি আমদানি শুল্কমুক্ত করার বিষয়ে অনুষ্ঠানে দাবির প্রেক্ষিতে বলেন, এটা ঢালাও ভাবেতো আমদানীর কোন প্রয়োজন নাই। কিন্তু যখন যার আমদানীর প্রয়োজন হবে, সে এনবিআর’র (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) কাছে লিখিতভাবে আবেদন করলে তাকে অনুমতি দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা ধর্মীয় অনুভূতির ব্যাপার। যারাই যখন রাধাকৃষ্ণ মূর্তি আনতে চান, যদি একত্রে অনেকেই আনতে চান তারা এনবিআর’র কাছে আবেদন করলে তাদের ট্যাক্স রিবেট দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি থাইল্যান্ড ২শ’ বৌদ্ধ মূর্তি আনার বিষয়ে সরকার অনুমোদন দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমি সব সময় এটা বিশ্বাস করি- সকল ধর্ম, বর্ণ নির্বেশেষে সকলেরই এই মাটিতে বসবাস করার অধিকার রয়েছে এবং সকলে সেই অধিকার নিয়েই এখানে বসবাস করবেন- এটাই আমরা চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মটা যার যার কিন্তু উৎসবটা সবার, আমি বলব এই চেতনা বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে। তিনি একে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য আখ্যায়িত করে পৃথিবীর মধ্যে অনন্য নজির বলেও উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম ধর্মে যে শান্তির বাণী রয়েছে সেটা সকলে মিলেই প্রচার করছে। সেভাবে আমি চাই-আপনাদের হিন্দু সম্প্রদায়ও আপনাদের ধর্মে যে শান্তির বানী বলা আছে সেটাও যেন ব্যাপকভাবে প্রচার করেন। সেভাবেই খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ সকল ধর্মবাবলম্বীদেরকেও আমি এই অনুরোধ জানাব- তারাও যেন তাদের ধর্মের শান্তির বানী প্রচার করেন। কারণ সকল ধর্মেই শান্তির কথা বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিরেন সিকদার, মৎস ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেসানন্দ মহারাজ, চট্টগ্রাম ঋষিধাম আশ্রমের প্রধান সুদর্শনানন্দ মহারাজ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে জয়ন্ত সেন দিপু, দেবাশিষ পালিত, রমেশ ঘোষ, ডিএন চ্যাটার্জী, এ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, তাপস কুমার পালও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পচাত্তরের ১৫ আগস্টে শহীদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবার পরিজনদের স্মরণে দাাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মানুষে মানুষে ভাতৃত্ববোধ যেন গড়ে ওঠে সেই প্রত্যাশা করে যার যার ধর্ম সে সে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন