কর্মীদের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য ‘মায়া ও দুঃখ’ হচ্ছে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেঁদেছেন। তার জন্য মায়া হয়, দুঃখ হয়।
“গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসার একটা বাসনা হয়ত আপনি লালন করেন, কিন্তু আপনি ফিরে আসতে পারবেন না। এই পাপিষ্ঠদের সঙ্গে যতদিন আছেন, ততদিন আপনার স্বস্তি নেই, শান্তি নাই, কেঁদে বুক ভাসালেও শান্তি পাবেন না”
কামরুল বলেন, “অত্যন্ত দুঃখের বলতে চাই, আপনি এমন একটা পাপিষ্ঠ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যারা রাজনীতির নামে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে জড়িত। আপনাকে কাঁদতে হবে, অঝোরে কাঁদতে হবে। তাদের দায়িত্বে যতদিন আছেন, ততদিন আপনার এই কান্না থামবে না।”
মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় ফখরুল বিরোধী দলের উপর দমন-পীড়নের শিকার কর্মীদের কথা বরতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন।
দেশে জঙ্গিবাদ ও বাংলা ভাইয়ের জন্ম দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত মন্তব্য করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মদদে সারাদেশে জঙ্গিবাদের বীজ রোপণ করা হয়েছে।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী বেগম আইভি রহমানের ১২তম শাহাদাতবার্ষিকী স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বুধবার শিল্পকলা একাডেমির মহড়া কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বেগম আইভি রহমান মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটি।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, ওয়ার্ল্ড ইউনির্ভাসিটির উপার্চায অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের সভাপতিত্বে আরো বক্তৃতা করেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আবু কাওছার মোল্লা, আওয়ামী কৃষক লীগের সভাপতি এমএ করিম, সহ-সভাপতি শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান সরাসরি জড়িত। তৎকালীন হাওয়া ভবনে এ হামলার পরিকল্পনায় একাধিক বৈঠক হয়েছে।
তিনি বলেন, ১/১১ পরবর্তী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে মুফতি হান্নান তার জবানবন্দিতে বলেছেন।
বাংলাদেশে আইএস বা আল-কায়েদার কোন অস্তিত্ব নেই- উল্লেখ করে কামরুল ইসলাম বলেন, এ দেশের জঙ্গি হলো বিএনপি-জামায়াত।
’৭৫-এ সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা, ২১ গ্রেনেড হামলাসহ সব হত্যাকান্ড একই সূত্রে গাঁথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী এ শক্তির মূল টার্গেট শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দেশের উন্নয়ন থামিয়ে দেয়া ও অর্থনীতিকে পঙ্গু করা। তাই আইএস-এর প্রেসক্রিপশনে তারা বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে নানা ষড়যন্ত্র ও জঙ্গি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ মদদে বিএনপি ও স্বাধীতাবিরোধী শক্তি ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্ট যারা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, তারাই ’৭১ ও ’৭৫-এর ঘাতক এবং জাতীয় ৪ নেতাকেও তারাই হত্যা করেছে।
’৭১-এর পরাজিত ঘাতকরা তাদের জিঘাংসা চরিতার্থ করতেই বারবার নৃশংস ও পাশবিক হত্যাকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অপশক্তিকে নির্মূল করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জামায়াতের সাথে বিএনপি নেতা খালেদা জিয়ার সখ্যতার কথা উল্লেখ করে কামরুল বলেন, বিএনপি’র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিরা যতই চেষ্টা করুক বিএনপিকে জামায়াত থেকে আলাদা করতে পারবে না।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর খোলা চিঠি আর মির্জা ফখরুলের কান্না কোন কিছুই বিএনপিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারায় নিয়ে আসতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি বিএনপি নেত্রীকে গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিকে ফিরে আসার আহবান জানান।
বিএনপি আইনজীবীরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারকার্য বিলম্বিত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ’৭৫-এর খুনীদের, যুদ্ধাপরাধীদের যেমন বিচার হয়েছে, এ হত্যা মামলারও বিচার হবে এবং জাতি রায় দেখবে।


