সিলেটের তারাপুর চা স্টেটের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিগত এক বছরের ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত নথি দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ওই কলেজের অধ্যক্ষকে এই হিসাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি বজলুর রহমান।
আদালতে মেডিকেল কলেজের পক্ষে শুনানি করেন বিচারপতি (অবসর) নজরুল ইসলাম চৌধুরী। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক রায়ে তারাপুর চা স্টেটের দখল বৈধ সেবায়েত বরাবর হস্তান্তর করতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ওই স্টেটের মধ্যে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও যত স্থাপনা রয়েছে তা ভেঙে ফেলতে বলা হয়।
আপিল বিভাগের এই রায়ের পর রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি স্থানান্তরের জন্য এক বছরের সময় চেয়ে গত জুন মাসে একটি আবেদন করে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
বুধবার এই আবেদনের শুনানির একপর্যায়ে আপিল বিভাগ রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক বছরের হিসাবের তথ্য তলব করেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই দেশে অনেক অনিয়ম হচ্ছে। এই ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হলে তা উদাহরণ হয়ে থাকবে।’
উল্লেখ্য, সরকারি কাগজ জাল করে সিলেটের তারাপুর চা স্টেট দখলের দুটি মামলায় সিলেটের শিল্পপতি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সেই সাথে তাঁর ছেলেমেয়ের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করেন সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত।
প্রতারণার এ দুই মামলায় রাগীব আলী ছাড়াও তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্ত, রাগীব আলীর আত্মীয় মৌলভীবাজারের রাজনগরের বাসিন্দা দেওয়ান মোস্তাক মজিদ, রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাই, জামাতা আবদুল কাদির ও মেয়ে রুজিনা কাদিরের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
বর্তমানে পরিবার নিয়ে রাগীব আলী ভারতে পলাতক রয়েছেন।


