বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

৪ দেশীয় যান চলাচল: বাংলাদেশের পরীক্ষামূলক যাতায়াত শনিবার

4 countries transportবাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো কার্গো ট্রায়াল রান শুরু হচ্ছে।

শনিবার বিকেল ৪টায় কমলাপুরের বিআরটিসি আন্তর্জাতিক বাস ডিপো থেকে ঢাকা-দিল্লি-আলীপুর রুটে যাত্রা শুরু হবে। এর মাধ্যমে বিবিআইএনভুক্ত চার দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে ট্রানজিটের পথও সুগম হবে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, এর মধ্যে ট্রায়াল রানের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন সম্পন্ন করেছে ভারত। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত হয়ে ভুটানে কার্গো ট্রায়াল রান পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যায়। এর সম্ভাব্য তারিখ গত বছরের ২৮ নভেম্বর ধরা হলেও নির্ধারিত রুট দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ট্রানজিট ট্রায়াল রান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পণ্য পরিবহনে রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ায় এ জটিলতা দেখা দেয়।

এরই মধ্যে যাবতীয় সমস্যার সমাধান হয়েছে। শনিবার বিবিআইএন কার্গো ট্রায়াল রান ঢাকা-দিল্লি-আলীপুর রুটে কমলাপুরস্থ বিআরটিসি আন্তর্জাতিক বাস ডিপো থেকে শুরু হবে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত ১৪ নভেম্বর থেকে চার দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে মোটরকার র্যা লি। এর আগে কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ট্রায়াল রান ১ থেকে ৩ নভেম্বর পরিচালনা করে ভারত। এখন বাংলাদেশের পালা। এরপর নেপাল ও ভুটান ট্রায়াল রান পরিচালনা করতে পারলেই চার দেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সার্ভিস শুরু হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে পণ্য ও যাত্রীবাহী যান চলাচলের চুক্তি হয়। এ চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ১ থেকে ৩ নভেম্বর চলে ভারতের কার্গো ট্রায়াল রান। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলায় পণ্যবাহী ট্রাক যায়। কলকাতা থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকটি পরিচালনা করেছে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সংস্থা ডিএইচএল। এতে ইলেকট্রনিক পণ্য ছিল। এসব পণ্যের অর্ধেক ঢাকায় নামে। আর বাকি অর্ধেক যায় আগরতলায়। পরীক্ষামূলক চালানের পণ্যবাহী ট্রাকটি কলকাতা-বেনাপোল-ঢাকা-আখাউড়া-আগরতলা পথে যায়। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে এ পথে কলকাতা থেকে আগরতলার দূরত্ব ৬৪০ কিলোমিটার। আগের পথে (কলকাতা-শিলিগুড়ি-শিলং-করিমগঞ্জ-আগরতলা) গেলে এর দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার। অর্থাৎ এ রুট ব্যবহার করে ভারতের দূরত্ব কমেছে। এখন বাংলাদেশ ট্রায়াল রান ভারত হয়ে ভুটান যাবে।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান নৌ-প্রটোকলের আওতায় কলকাতা থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত নৌপথে, পরে সড়কপথে আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার পণ্য নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে এ বহুমাত্রিক পথে তিনটি পরীক্ষামূলক চালান কলকাতা থেকে আগরতলা গেছে। ভারতের এ পথে পণ্য নেওয়ার আগ্রহ বেশি। এ পথটি নিয়মিত করার বিষয়টি যাচাইবাছাই করতে একটি যৌথ কমিটি কাজ করছে।

অবশ্য এর আগে ২০১১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ভারতকে বহুমাত্রিক পথটি তিনবার ব্যবহার করার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবার এ পথ ব্যবহার করে ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী যন্ত্রাংশ গেছে। দ্বিতীয়বার ১০ হাজার টন চাল গেছে। সর্বশেষ  ২৫ হাজার টন চালের একাধিক চালান ত্রিপুরায় নেয় ভারত।

আরও পড়ুন