বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কাসেমের ফাঁসি বহালে জাতির আশা পূর্ণ হল: অ্যাটর্নি জেনারেল

Mahbubey-Alamযুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যাওয়ায় ‘সন্তোষ’ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম।

মঙ্গলবার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অ্যটার্নি জেনারেল বলেন, “যে আশা নিয়ে সমগ্র জাতি ছিল এবং আমি ছিলাম, আজ তা পূর্ণ হয়েছে। আমি সন্তুষ্ট।”

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ মজলিশে শুরার সদস‌্য মীর কাসেমকে যুদ্ধাপরাধের দুই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৮ মার্চ আপিলের রায়ে এক অভিযোগে কাসেম খালাস পেলেও অন‌্যটিতে সর্বোচ্চ সাজাই বহাল থাকে।

ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার খারিজ করে দেওয়ায় এখন কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ থাকল একাত্তরের বদর নেতা কাসেমের সামনে।

এ বিষয়ে অ‌্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “মীর কাসেম আলী যদি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চায় তাহলে আলাদা কথা। না হলে সরকার যখন চাইবে রায় কার্যকর হবে।”

প্রসিকিউশনের আনা ১৪টি অভিযোগের মধ‌্যে ১১ ও ১২ নম্বর ঘটনায় ট্রাইব‌্যুনাল কাসেমকে মৃত‌্যুদণ্ড দিলেও ১২ নম্বরে আপিল বিভাগে খালাস পেয়ে যান তিনি।

রিভিউ রায়ের পর এ বিষয়ে অ‌্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “প্রসিকিউশন যদি মামলাটা ঠিকমত পরিচালনা করত, তাহলে ১২ নম্বর চার্জেও মৃত‌্যুদণ্ড বহাল থাকত।”

আপিল বিভাগে এ মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাও প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, যা আলোচনার জন্ম দেয়। রিভিউ শুনানিতে তিনি বলেন, ট্রাইব‌্যুনালে মীর কাসেমের মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে যারা যুক্ত ছিলেন এবং যিনি তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন (প্রধান প্রসিকিউটর), তাদের ওই দায়িত্বে থাকা ‘উচিত নয়’।

রিভিউ রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন, “রায়ের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত রায় হয়েছে। উই আর হ্যাপি।”

এ মামলার অন‌্যতম প্রসিকিউটর তুরীন আফরোজ বলেন, “ন্যায়বিচার পেয়েছি। সত্য সূর্যের মত ধ্রুব।”

মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের ত্রাস কাসেম রাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে অসাধারণ ধূর্ততার স্বাক্ষর রেখে অত‌্যন্ত দ্রুততায় নিজের ও দলের উন্নতি ঘটান, পরিণত হন জামায়াতের আর্থিক মেরুদণ্ডে। তেষট্টি বছর বয়সী এই যুদ্ধাপরাধী এখন আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের কনডেম সেলে।

কাসেম হলেন ষষ্ঠ যুদ্ধাপরাধী, যার সর্বোচ্চ সাজার রায় কার্যকরের পর্যায়ে এসেছে। তিনি হলেন জামায়াতের পঞ্চম শীর্থ নেতা, শেষ বিচারেও যার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন