ঈদের আগে প্রথম শুক্রবারের ট্রেনের টিকেট পেতে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনের ভিড় আগের দুদিনের মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে বুধবার।
সকাল ৯টায় কমলাপুরে গিয়ে দেখা যায়, টিকেট কাউন্টারের সামনে থেকে টিকেটপ্রত্যাশীদের লাইন সামনের রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। দীর্ঘ এই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকের চেহারায় ছিল রাত জাগার ক্লান্তি।
ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রির তৃতীয় দিনেও আগেভাগে টিকেট নেওয়ার জন্য অনেকে স্টেশনে রাত কাটিয়েছেন। তবে সকাল থেকে ভিড় বাড়তে থাকলে টিকেট বিক্রিতে ধীর গতি দেখা দেয়।
দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত টিকেট না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন কেউ কেউ।অনেকে এসি টিকেট না পাওয়া এবং টিকেট বিক্রিতে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার দেওয়া হচ্ছে ৯ সেপ্টেম্বরের আগাম রেল টিকেট। এর আগে গত সোম ও মঙ্গলবার দেওয়া হয়েছে ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বরের টিকেট।
বৃহস্পতিবার দেওয়া হবে ১০ সেপ্টেম্বরের টিকেট। আর আগাম টিকেট বিক্রির শেষ দিন শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) দেওয়া হবে ১১ সেপ্টেম্বরের টিকেট। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বাংলাদেশে আগামী ১২ বা ১৩ সেপ্টেম্বর কোরবানির ঈদ হতে পারে।
ঈদে টানা দশদিন ছুটি পেয়ে চট্টগ্রামের টিকেটের জন্য সকাল ১১টার দিকে কাউন্টারে এসেছেন আনসার সদস্য রনজিৎ মোহন্ত। “ঈদের ছুটি বাড়িতে কাটাব। এজন্যই টিকেটের জন্য এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা,” বলেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টিকেট নিতে ভোর ৩টায় স্টেশনে আসা আইসিএমএবির শিক্ষার্থী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “এবার সবাই ঈদ করব বাড়িতে, এজন্য টিকেট কিনতে আসা।”
এসি টিকেট না পাওয়ার অভিযোগ করলেন শান্ত মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ডিজাইনের ছাত্র সোহেল রানা। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় এসে ২৮ নম্বর সিরিয়াল পেলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত টিকেট পাননি তিনি।
সোহেল বলেন, “রাজশাহীতে প্রতিদিন তিনটা ট্রেন যায়। এসব ট্রেনে সবমিলিয়ে প্রায় পাঁচশ আসন। আমার আগে সবাই যদি এসি টিকেট কেনে তারপরও শেষ হওয়ার কথা নয়। এত কষ্ট করার পর টিকেট না পেলে খুব খারাপ লাগে।”
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর যাবেন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আনোয়ারুল হক। সকাল ছয়টায় স্টেশনে এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, “গতকাল দুপুর থেকে আমার এক আত্মীয় এখানে ছিল। আমি আসার পর সে চলে গেছে। শোভন চেয়ার টিকেট চেয়েছিলাম। দেয়নি, দিয়েছে শোভন শ্রেণির টিকেট। টিকেটের জন্য কষ্ট অনেক।”
সকাল ৯টার দিকে তিস্তা এক্সপ্রেসের টিকেট শেষ হয়ে যাওয়ার কথা কাউন্টার থেকে জানানো হলে শুরু হয় হট্টগোল। এই ট্রেনের টিকেট কিনতে মঙ্গল বিকাল ৪টায় কমলাপুরে এসেছেন গিয়াস উদ্দিন উদ্দিন। টিকেট নিয়ে ‘দুর্নীতি’ হচ্ছে এমন অভিযোগ তার।
ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন তিনি, “প্রথম এক ঘণ্টায় ৫০ জনের মতো টিকেট কিনেছে। এরমধ্যে একটা ট্রেনের সব টিকেট শেষ, এটা কিভাবে বিশ্বাস করি?”
নারীদের কাউন্টারে টিকেট প্রত্যাশীদের ভিড় অন্য কাউন্টারের চেয়ে বেশি। তবে এখানে দুটি কাউন্টারের একটি থেকে রেলকর্মীদের টিকেট দেয়া হচ্ছে। টিকেট বিক্রির ধীরগতিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নারীরা।
খিলগাঁও থেকে ভোর ৪টায় স্টেশনে এসেছেন নূর আখতার। সকাল সাড়ে ১০টায়ও টিকেট পাননি তিনি। দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে এক পর্যায়ে বসে পড়লেন মাঝবয়সী এই নারী। তিনি বলেন, “একটা কাউন্টার থেকে টিকেট দেয় বলে দেরি হচ্ছে। দুইটা কাউন্টার থেকে টিকেট দিলে তাড়াতাড়ি হতো; আমাদের কষ্ট কম হতো।”
বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কথা হয় কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্ত্তীর সঙ্গে।
তিনি জানান সম্প্রতি চাহিদা বাড়ায় রেলের এসি টিকেট দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর সকাল ৯টার মধ্যে তিস্তা এক্সপ্রেসের টিকেট শেষ হয়নি বলেও দাবি তার। তিনি বলেন, “মানুষের হাতে টাকা আছে, ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। এজন্য সবাই এসে এসির টিকেট চায়। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয়না। তিস্তা এক্সপ্রেসের সব টিকেট শেষ কথাটা ঠিক না। কিছু কিছু স্টেশনের টিকেট এখনও আছে।”
ঈদের ফিরতি টিকেট বিক্রি করা হবে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে। প্রথম পাওয়া যাবে ১৪ সেপ্টেম্বরের টিকেট।
এরপর ৬ সেপ্টেম্বর ১৫ সেপ্টম্বরের, ৭ সেপ্টেম্বর ১৬ সেপ্টেম্বরের, ৮ সেপ্টেম্বর ১৭ সেপ্টেম্বরের এবং ৯ সেপ্টেম্বর ১৮ সেপ্টেম্বরের ফিরতি টিকেট দেওয়া হবে।
(ছবি: চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে মঙ্গলবার তোলা)


