ঢাকার কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যার আসামি ওবায়েদুল খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
এ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা সংশ্লিষ্ট পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, রিশার মায়ের দায়ের করা এ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) যুক্ত করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক মো. আলী হোসেন বৃহস্পতিবার আসামি ওবায়েদকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। সেই সঙ্গে এ মামলায় হত্যার ধরা যুক্ত করার অনুমতি চান তিনি।
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু আদালতে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
ওবায়েদের সঙ্গে আর কারা এ ঘটনায় জড়িত তা জানার জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আর্জিতে জানান তিনি।
আসামি ওবায়েদের পক্ষে এ সময় আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তার জামিনেরও কোনো আবেদন করা হয়নি।
শুনানি শেষে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার পাশাপাশি ৩০২ ধারা যুক্ত করার অনুমতি দেন।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রিশা (১৪) গত বুধবার স্কুলের সামনের ফুটওভারব্রিজে এক যুবকের ছুরিকাঘাতে আহত হয়। তিনদিন পর রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনায় রিশার মা তানিয়া বেগম রমনা থানায় একটি মামলা করেন, যাতে এলিফ্যান্ট রোডের বিপণি বিতান ইস্টার্ন মল্লিকার বৈশাখী টেইলার্সের কর্মী ওবায়েদকে আসামি করা হয়।
তানিয়া বেগম পুলিশকে বলেন, কয়েক মাস আগে বৈশাখী টেইলার্সে একটি জামা বানাতে দিয়ে যোগাযোগের জন্য সেখানে তিনি নিজের ফোন নম্বর দিয়েছিলেন।
সেই থেকে ওবায়েদ ওই নম্বরে ফোন করে প্রায়ই রিশাকে বিরক্ত করে আসছিলেন এবং স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন বলে তানিয়া বেগমের অভিযোগ। তার ধারণা, ওবায়েদই সেদিন রিশাকে ছুরি মেরেছিল।
এক সপ্তাহ চেষ্টার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বুধবার ডোমার উপজেলার সোনারায় বাজার থেকে ওবায়েদকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।


