বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আগে থেকে ধরে জঙ্গিদের কেন মেরে ফেলা হয়

01-09-16-Khaleda Zia_Official Web Site Opening-4সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আগে থেকে ধরে পরে গুলি করে মেরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কেন গুলি করে মেরে ফেলা হয়—এ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আইন আছে, আদালত আছে, জিজ্ঞাসাবাদ করবে। আদালতে যা সাজা হবে, তা-ই হবে। গুলি করে মারার রহস্য কী? নিশ্চয়ই রহস্য কিছু একটা আছে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘কতগুলো পুলিশ আছে, অস্ত্রশস্ত্র সাজিয়ে বলে এরা জঙ্গি, হরকাতুল জিহাদ, এদের ধরেছি। কী তথ্য পাওয়া গেছে, তা প্রকাশ হয় না। কিছুদিন পর দেখা যায়, লোকগুলোকে ধরে গুলি করে মেরে ফেলা হয়।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই সরকার কথায় কথায়, কিছুদিন পরপর জঙ্গির ধুয়া তোলে। বলে, অমুক জায়গায় জঙ্গি আছে, এতজন জঙ্গি পাওয়া গেছে। সত্যিকার জঙ্গি কি না, জানি না। কিছু লোক তাদের ধরা থাকে। না খেয়ে খেয়ে, দীর্ঘদিন বন্দী থেকে তাদের দাড়ি, চুল বড় হয়ে বিদ্ঘুটে চেহারা হয়ে যায়। তারপর তাদের জঙ্গি বলে সামনে নিয়ে আসে।’

যশোরে উদীচীর সমাবেশ, পল্টনে সিপিবির জনসভা, বাংলা নববর্ষে রমনার বটমূলে বোমা হামলা, গোপালগঞ্জে বোমা পেতে রাখার ঘটনার উল্লেখ করে বিএনপির নেত্রী বলেন, ওই সময় কোনো অপরাধী, জঙ্গি ধরা পড়েনি। জেএমবি, হরকাতুল জিহাদের একটা লোককেও তখনকার সরকার ধরেনি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসল, আমাদের সময়ও যে বোমাবাজি করেনি; তা নয়। কিন্তু আমরা শায়খ আবদুর রহমানসহ তাদের বড় বড় নেতাদের জীবিত অবস্থায় ধরেছি। জীবিত ধরার কারণ এটাই, তাদের কাছ থেকে সত্যিকার তথ্য বের করা।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, রামপালে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়া উচিত নয়। তাহলে ওই অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। সুন্দরবন শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সময় বলিনি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ আমাদের প্রয়োজন আছে। সেটা এমন জায়গায় হতে হবে, যেখানে পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি হবে না।’

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে নিজের সংবাদ সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘সেদিন রামপাল নিয়ে আমি বক্তব্য দিয়েছি। তারা এটা নিয়ে অনেক ব্যঙ্গ করেছে, আজেবাজে কথা বলেছে। কিন্তু আমরা যা যা বলেছি, কোনো পয়েন্টেই তারা সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।’

খালেদা জিয়া বলেন, সরকার একেকটা উন্নয়ন প্রকল্প নেয়, দুই মাস পর ওই প্রকল্প ব্যয় দ্বিগুণ-ত্রিগুণ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর কিছু হয়নি। এখন ব্যয় বেড়ে ৩২ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রকল্প ব্যয় বাড়ার কারণটা হলো, এখানে কমিশনের ব্যাপার আছে। ওই জিনিসটা পকেটে নেয়, হিসাব-কিতাব করে তারপর প্রকল্প ব্যয় ঠিক করা হয়। এভাবেই তারা কাজ করছে।’

বক্তৃতার আগে খালেদা জিয়া বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় নতুন আঙ্গিকে বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন। নিজের নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্টও খোলেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেলা সোয়া ১১টায় শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান খালেদা জিয়া। পরে তিনি নেতা-কর্মীদের নিয়ে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।

আরও পড়ুন