ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জের স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কাজ শুরু করেছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি।
রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ। বলেন, “হাইকোর্টের আদেশে গত বুধবার থেকে বিচারিক তদন্ত কাজ শুরু করেছেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম শেখ হাফিজুর রহমান। এর মধ্যে সংবাদ প্রকাশিত সংবাদের কপি চেয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টিভিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
হাকিম শেখ হাফিজ শিগগিরই নারায়ণগঞ্জ যাবেন বলেও জানান সাব্বির ফয়েজ।
গণমাধ্যমে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, “সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে উক্ত ঘটনার বিষয়ে আপনার পত্রিকয় গত ১৮-মে তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তারিখের প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিবেদন নিম্ন স্বাক্ষরকারী বরাবর ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।”
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জের স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় পুলিশ প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে পুরো ঘটনা বিচারিক তদন্তে গত ১০ অগাস্ট নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট।
তিন মাস আগের ওই ঘটনা তদন্ত করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমকে আগামী ৩ নভেম্বরে মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আগামী ৬ নভেম্বর প্রয়োজনীয় আদেশের জন্য বিষয়টি আসবে বলে আদেশে জানায় হাইকোর্ট।
নারায়ণগঞ্জের স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনায় মন্ত্রী থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এ কে এম সেলিম ওসমানের শাস্তি দাবি করলেও পুলিশ তদন্ত করে ৭ অগাস্ট আদালতে যে প্রতিবেদন দেয়, তাতে বলা হয়, ওই ঘটনায় এই সংসদ সদস্যের কোনো দোষ তারা পায়নি।
হাইকোর্ট আদেশে বলেছে, সাধারণ ডাইরির প্রেক্ষিতে করা ওই ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কর্মকর্তা ব্যর্থ হয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনটি ‘অসম্পূর্ণ ও অসমন্বিত’। তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা মেলেনি বলে যে বিচারক (নারায়ণগঞ্জ আদালতের) ওই প্রতিবেদন নথিভুক্ত করে রাখেন, তিনি ‘বিচারিক মন প্রয়োগ করেননি’।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে গত ১৩ মে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে নিন্দা-প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানই যে সেদিন শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কান ধরে উঠ-বস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও তা দেখা যায়।
সরকারের মন্ত্রীরাও সে সময় সেলিম ওসমানের ভূমিকার জন্য সমালোচনায় মুখর হন। তবে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের এই সদস্য কোনো ‘ভুল করেননি’ দাবি করে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন।
ওই ঘটনা নিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে এলে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।
মে মাসে ঘটনার পরপরই শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে চাকরিচ্যুত করেছিল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে নিন্দা-প্রতিবাদের মধ্যে দুই দিনের মাথায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিদ্যালয় কমিটিও বাতিল করা হয়। দীর্ঘদিন ঢাকায় চিকিৎসা নেওয়ার পর গত মাসে স্কুলে ফিরে যান শ্যামল কান্তি।
এছাড়া শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে কথিত নির্যাতিত ছাত্রের মায়ের একটি এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে করা আরেকটি মামলার আরজি নারায়ণগঞ্জের আদালত খারিজ করে দেয়।


