বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

কানাডা থেকে ফিরে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে ‘জঙ্গি’ হয় মেজর জাহিদ

কানাডা থেকে ফিরে সেনাবাহিনীর চাকরি ছাড়েন মেজর জাহিদরাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে নিহত ‘জঙ্গি’ মেজর জাহিদুল ইসলাম ২০১৪ সালে সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় প্রশিক্ষণের জন্য কানাডা যান। ছয় মাস প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে কিছুদিনের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে রূপনগরে পুলিশের অভিযানের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ইউসুফ আলী জানান, নিহত মেজর মুরাদ (আসলে মেজর জাহিদ হবে) জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন। তিনি গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলাকারীদেরও প্রশিক্ষক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি গুলশান হামলার ‘হোতা’ নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে নিহত তামিম আহমেদ চৌধুরীর ‘ডান হাত’ ছিলেন।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিহত ব্যক্তির পরিচয় জেনেছে। তিনি মেজর (অব.) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৪৩ লং কোর্সে প্রশিক্ষণ শেষে ২০০০ সালের নভেম্বরে সেনাবাহিনীতে কমিশন পান। পদাতিক বাহিনীর এই কর্মকর্তা গত বছরের মাঝামাঝি সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন।

নিহত মেজর জাহিদের বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের পশ্চিম চান্দপুরে। তাঁর বাবা নুরুল ইসলাম অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা। ওই এলাকায় ড্রিম হাউস নামে তাঁদের একটি বাড়ি আছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থেকে জানা যায়, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম নামের এই ব্যক্তির জন্ম ১৯৭৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। তার পেশা হিসেবে সরকারি চাকরি লেখা রয়েছে। ভোটার নম্বর ২৬০৯৬২০০০০৭২। তার জন্ম রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০২০০৭১৯৫০০৬০৩৬১৫৪। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। থুতনির নিচে কাটা দাগ রয়েছে। রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ। ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর সিপি ০১৬৫৬৯৩ এইচএস। পাসপোর্ট নম্বর- ওএ ৬০১২৫৬৬। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডারে তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত পল্লবী থানাধীন মিরপুর ক্যান্টমেন্ট হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।  যার ওয়ার্ড নম্বর ৬। ৪২৩/৯ অফিসার্স কোয়ার্টার।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার শাহ আবিদ জানান, সাত মাস আগে জাহিদ কুমিল্লার ওই বাড়িতে এসেছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় প্রশিক্ষণের জন্য কানাডায় যান। ছয় মাস প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে কিছুদিনের মধ্যেই সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেন। ঢাকার উত্তরায় থাকতেন। সর্বশেষ তিন মাস আগে তাঁর শ্বশুর কুমিল্লার শৈলরানী দেবী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুল মমিন ও বাবা নূরুল ইসলামের মুঠোফোনে খুদেবার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে জানান, তিনি স্ত্রী জেবুন্নাহার শীলা ও দুই মেয়েকে নিয়ে বিদেশ চলে যাচ্ছেন। তার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি। গত শুক্রবার টেলিভিশনে সংবাদ দেখে তাঁরা নিশ্চিত হন মুরাদই মেজর জাহিদ।

পাঁচথুবী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ইউনুস মিয়া বলেন, ‘নুরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা হলে সম্মান করি, সালাম দেই। কিন্তু ওনার ছেলে যে জেএমবি তা তো জানতাম না।’ তিনি বলেন, ‘এ এলাকায় জঙ্গিবাদ স্থান পাবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের লোকের সন্ধান পেলে অবশ্যই আমরা প্রশাসনকে জানাব।’

পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন জানান, এলাকার লোকজন জাহিদদের সম্পর্কে বেশি জানে না। এরা পরে এখানে আসে। এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা এরা ছিল না। এদের আদিনিবাস সিলেটে। আরো অনুসন্ধান করছি। পরে আরো জানানো হবে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তামিম চৌধুরী কানাডার নাগরিক ছিলেন।

সূত্র জানায়, নিহত জাহিদুলের সঙ্গে জেএমবির নব্য ধারার নেতা ও গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীরসহ অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। জাহিদুল চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই সে পুরোপুরি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন