বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কুমিল্লায় বিস্ফোরণে শিবির নেত্রী নিশার মৃত‌্যু

কুমিল্লায় বিস্ফোরণে শিবির নেত্রী নিশার মৃত‌্যুকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ছাত্রী নিবাসে ‘সন্দেহজনক’ বিস্ফোরণে দগ্ধ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কর্মী ফাহমিদা হাসান নিশা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের নবম ব‌্যাচের ছাত্রী নিশা গত দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সোমবার ভোরে সেখানেই তার মৃত‌্যু হয় বলে বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল জানান। তিনি বলেন, নিশার শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

গত ২৩ অগাস্ট কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ‘প্রশান্তি’ ছাত্রী নিবাসে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটলে দগ্ধ হন নিশা। সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘উচ্চ ক্ষমতার তরল বিস্ফোরক’ থেকে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।

কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সহিদুল বাশার পরে বিস্ফোরণের ঘটনায় সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা করেন, যাতে নিশাসহ তিন ছাত্রীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

নিশা ছাড়া বাকি দুজন হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের অষ্টম ব্যাচের ছাত্রী নূর নাহার ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অষ্টম ব্যাচের ছাত্রী মর্জিনা আক্তার।

নিশাসহ তিনজনই জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রী সংগঠন ইসলামী ছাত্রীসংস্থার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের ঘরে সংগঠনের বইপত্র পাওয়া গেছে বলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন সে সময় জানিয়েছিলেন।

সে সময় তিনি বলেছিলেন, “ধারণা করা হচ্ছে নিশা কোনো হাই এক্সপ্লোসিভ দিয়ে কিছু একটা করছিলেন। তার কক্ষে বিস্ফোরণের পর পাশের কক্ষেও বিস্ফোরণ ঘটে।”

নিশা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার আসকিনা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবু হাসানের মেয়ে। ঢাকা থেকে মুঠোফোনে নিশার মামা তারিকুল ইসলাম, রাত দেড়টার দিকে ডাক্তাররা নিশার মৃত্যুর খবর জানায়। নিশার অসুস্থ বাবা ঢাকায় তার এক আত্মীয়ের বাসায় রয়েছেন। তাকে এখনো মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিশার মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার আসকিনায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত ও মামলা

এর আগে গত ২৩ আগস্ট ভোর ৬টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর গ্রামে বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম মৃধার ‘প্রশান্তি’ (মেস) নামের বাসার নিচতলায় বিস্ফোরণে ফাহমিদা দগ্ধ হন। এতে ওই ভবনের নিচতলার জানালার গ্রিল উড়ে যায় ও কাচ ভেঙে যায়।

পরদিন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই শহীদুল বাশার সন্ত্রাস দমন আইনে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনসহ ৩ ছাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার ৩ আসামি হলেন নুরুন্নাহার, মর্জিনা আক্তার ও দগ্ধ ছাত্রী ফাহমিদা হাসান। ফাহমিদা হাসান নিশা অর্থনীতি দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিল। তাকেও এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।

পুলিশ সূত্র জানায়, ভয়াবহ তরল জাতীয় কিছু (হাই এক্সক্লুসিভ লিকুইড) বিস্ফোরিত হয়ে হয়তো ফাহমিদা হাসান দগ্ধ হয়েছিল। ঘটনার দিন ঢাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুস সালামের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কিছু আলামত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খাদেমুল বাহার বলেন, এ মামলায় এজাহার নামীয় ৩ জনের মধ্যে নিশা গত রাতে মারা গেছে। গ্রেফতার হওয়া অপর ২ জন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মর্জিনা আক্তারকে ইতোমধ্যে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন