বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

দুই মন্ত্রীর পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

kamukখাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে।

শপথ ভঙ্গের পর দুই মন্ত্রী কোন কর্তৃত্ব বলে পদে আছেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে এই রিট আবেদনে।

এর আগে দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গের পর কোন কর্তৃত্ব বলে পদে আছেন, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে শনিবার আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন আইনজীবী ইউনূছ আলী আকন্দ। এতে সাড়া না পেয়ে আজ রিট আবেদন করেন তিনি।

দুই মন্ত্রীর আদালত অবমাননার পূর্ণাঙ্গ রায় ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। রায়ে দেখা যায়, আপিল বিভাগের আটজন বিচারপতি দুই মন্ত্রী আদালত অবমাননা করেছেন বলে সিদ্ধান্ত টানেন। আর পাঁচজন বিচারপতি বলেছেন, ওই দুই মন্ত্রীর সংবিধান রক্ষার শপথ ভঙ্গ হয়েছে। অন্য তিনজন বিচারপতি শপথভঙ্গের বিষয়টি বিচার্য ছিল না বলে উল্লেখ করেছেন। তবে শপথভঙ্গের জন্য তাঁদের মন্ত্রিত্ব থাকবে কি না, সে বিষয়ে আপিল বিভাগ কিছু বলেননি। সংবিধান বা প্রচলিত কোনো আইনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলা নেই।

এর আগে দুই মন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আট সদস্যের বেঞ্চ গত ২৭ মার্চ রায় দেন।

আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত করে দুই মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন আপিল বিভাগ। পাঁচ মাস পর ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গটা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ওই রায়ে বলা হয়েছে, তাঁরা (দুই মন্ত্রী) আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানে তাঁদের শপথ ভঙ্গ করেছেন।

সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে আসা এই রায় লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। দুই মন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দেওয়ার বিষয়ে একমত হলেও তাঁদের শপথ ভঙ্গ করার বিষয়ে ভিন্নমত দিয়ে রায় লিখেছেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি মো. নিজামুল হক।

গত ৫ মার্চ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির আদেশ পাওয়া মীর কাসেম আলীর আপিল মামলা পুনঃশুনানির দাবি জানান। ওই শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকও প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন। এর তিন দিনের মাথায় ৮ মার্চ আপিল বিভাগ জামায়াতের নেতা মীর কাসেম আলীর আপিলের রায় ঘোষণা করেন, তাতে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। ওই দিন আপিল বিভাগ দুই মন্ত্রীকে কারণ দর্শাতে বলেন এবং আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। দুই মন্ত্রী আদালতে হাজির হয়ে তাঁদের ব্যাখ্যা দাখিল করেন এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

আরও পড়ুন