বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

৩০ নভেম্বরের পর জরিমানা দিয়ে আয়কর দিতে হবে

Nbrগত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমার সময় শুরু হয়েছে। এবার জরিমানা ছাড়া কর দেয়া যাবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর জরিমানা ছাড়া কেউ কোনো আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন না।

এরই মধ্যে আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণের নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সুবিধার্থে এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে এনবিআর-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশিকায় সহজভাবে রিটার্ন দাখিলের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণের নির্দেশিকা রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।

গতবারের মতো এবারও (২০১৬-১৭ অর্থবছর) কোনো করদাতার বার্ষিক আয় আড়াই লাখ টাকার বেশি হলে কর দিতে হবে।

আর নারী এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক নাগরিকদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ টাকা। এর নিচে বার্ষিক আয় কারো হলে তাকে আর আয়কর দিতে হবে না। করদাতা প্রতিবন্ধী হলে তাকে পৌনে চার লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের কর ছাড় দেয়া হয়েছে।

গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা সোয়া চার লাখ টাকা। এ ছাড়া সন্তান প্রতিবন্ধী হলে পিতামাতা ও আইনানুগ অভিভাবক করদাতা হলে বার্ষিক আয়ে আরো ২৫ হাজার টাকা করমুক্ত সুবিধা পাবেন।

করমুক্ত সীমার বেশি আয় হলে বিভিন্ন হারে কর দিতে হবে। করমুক্ত আয়সীমার পর প্রথম চার লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ হারে; পরবর্তী পাঁচ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ; পরবর্তী ছয় লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ; পরবর্তী ৩০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির মোট আয় যদি সাড়ে ৪৭ লাখ টাকার বেশি হয়, তবে বাকি টাকার জন্য ৩০ শতাংশ হারে কর বসবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত করদাতার জন্য ন্যূনতম কর পাঁচ হাজার টাকা। অন্য সিটি এলাকার জন্য চার হাজার টাকা। আর এর বাইরের এলাকার জন্য তিন হাজার টাকা।

এতোদিন ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল আয়কর বিবরণী জমা দেয়ার শেষ দিন। কিন্তু প্রতিবারই এ সময় দুই-তিন দফায় বাড়ানো হতো।

এবার বাজেটে এই সময়সীমা ৩০ নভেম্বর শেষ হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এদিন কর দিবস পালনেরও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের পর জরিমানা ছাড়া কেউ আয়কর দিতে পারবেন না। প্রতিদিন বকেয়ার জন্য নির্দিষ্ট পরিমান জরিমান ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাকে প্রদান করতে হবে।

আরও পড়ুন