বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সিলেটে বন্ধ হয়ে গেল ব্রিটিশ হাইকমিশনের কনস্যুলেট অফিস

সিলেটে বন্ধ হয়ে গেল ব্রিটিশ কনস্যুলেট অফিসসিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনের কনস্যুলেট অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক চালু থাকার পর এই কনস্যুলেট অফিসটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।

ইতিমধ্যেই সিলেট নগরীর কুমারপাড়ার কনস্যুলেট অফিস অনানুষ্ঠানিকভাবে গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুয়েকদিনের মধ্যেই ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে সিলেটস্থ কনস্যুলেট অফিস বন্ধের চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় ২০০১ সাল থেকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের কনস্যুলেট অফিস চালু করা হয়। এ অফিস থেকে সিলেটি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকদের পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট প্রদান, পাসপোর্ট হারানো গেলে ট্রাভেলিং ডকুমেন্ট প্রদান, জোরপূর্বক বিয়ে প্রতিরোধ, হয়রানির শিকার ব্রিটিশ নাগরিকদের আইনি সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হতো।

এছাড়া এ কনস্যুলেট অফিস থেকেই এক সময় ব্রিটেন গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের ভিসার আবেদন নেওয়া হতো এবং ভিসা প্রদান করা হতো। পরবর্তীতে ভিএফএস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে সিলেট থেকে ব্রিটেনে গমনেচ্ছুকদের ভিসা আবেদন গ্রহণ ও ভিসা প্রদান কার্যক্রম শুরু করে। এরপরও সিলেট থেকে কনস্যুলেট অফিস গুটিয়ে নেয়নি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। তবে এবার সেই অফিস গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই ওয়েবসাইটে ব্রিটিশ কনস্যুলার অফিসের ঠিকানা নগরীর কুমারপাড়া থেকে পরিবর্তন করে মির্জাজাঙ্গাল রোডস্থ হোটেল নির্ভানা ইনের ৭ম তলায় ভিএফএস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড করা হয়েছে। সেখান থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের সেবা প্রদান করা হবে।

তবে সিলেটে স্বতন্ত্র ব্রিটিশ কনস্যুলেট অফিস বন্ধ করে দেওয়ায় প্রবাসীরা ভোগান্তিতে পড়বেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে কথা হয় সিলেট ওভারসিজ সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ব্রিটিশ বাংলাদেশি রয়েছেন। এর মধ্যে ৯০ ভাগই সিলেটি। এদের সিংহভাগই ব্রিটিশ পাসপোর্ট বহন করেন। এছাড়া সিলেটে প্রায় ৩০ হাজার ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী ব্যক্তি স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এর মধ্যে ১০ হাজার ব্যক্তি ব্রিটিশ সরকারের পেনশনধারী। সিলেটে স্বতন্ত্র ব্রিটিশ কনস্যুলেট অফিস বন্ধ করে দেওয়ায় এসব ব্যক্তি সমস্যায় পড়বেন, ভোগান্তি পোহাবেন।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ কনস্যুলেট অফিসের মাধ্যমে দেশে থাকা প্রবাসীরা দ্রুততার সঙ্গে যেকোনো সেবা পেয়েছেন। দেশে তাদের জায়গা নিয়ে সমস্যা হলেও ত্বরিৎ সমাধান পেয়েছেন। কিন্তু কনস্যুলেট অফিস বন্ধ করে দেওয়ায় এখন সেবা পেতে তাদের ঝামেলায় পড়তে হবে। এখন থেকে ব্রিটেনে থাকা প্রবাসীরা দেশবিমুখ হবেন।

শামসুল আলম আরো বলেন, প্রবাসীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সিলেটে স্বতন্ত্র ব্রিটিশ কনস্যুলেট অফিস করা হয়। কিন্তু সেটা বন্ধ করে দেওয়ায় সমস্যা হবেই। এ বিষয়ে আমরা হতাশ, উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, সিলেটে স্বতন্ত্র ব্রিটিশ কনস্যুলেট অফিস থাকাটা সিলেটিদের জন্য ছিল গর্বের। কিন্তু ভিসা কার্যক্রম দিল্লিতে সরিয়ে নেওয়ার পর এবার কনস্যুলেট অফিস সরিয়ে নেওয়াটা চরম হতাশার।

বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছেন শামসুল আলম।

আরও পড়ুন