ঝালকাঠিতে ২৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক নেই ২৯৩টি স্কুলে। সহকারী শিক্ষকের ১৬৫টি পদ শূন্য। এছাড়া প্রয়োজন থাকলেও অনুমোদন নেই শতাধিক পদের। এসব কারণে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।
জেলায় সরকারি প্রাইমারি স্কুলের সংখ্যা ৫৭৮। এর মধ্যে ৩৬৪টি পুরনো সরকারি, ২০৭টি নতুন জাতীয়করণকৃত ও দেশব্যাপী ১ হাজার ৫০০ স্কুল নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সাতটি নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ২৯টি স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে অনুমোদন নেই। এর মধ্যে ৩০ বছর আগে সরকারি হওয়া কাঁঠালিয়ার বলতলা নবলক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও রয়েছে।
এছাড়া জাতীয়করণকৃত ২১টি ও নতুন প্রতিষ্ঠা করা সাতটি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ অনুমোদিত হয়নি। বাকি ৫৪৯ স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত ৩৪৪ জন। শূন্য পদের সংখ্যা ২০৫। এর মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১৬০ স্কুলের মধ্যে ৬৩টি, নলছিটিতে ১৬৫ স্কুলের মধ্যে ৬৯টি, রাজাপুরে ১২১টি স্কুলের মধ্যে ৫২টি ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় ১৩২ স্কুলের মধ্যে ৫০টি স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকরাই এসব স্কুলে প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ফলে তাদের পক্ষে স্কুলে নিয়মিত ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রতিটি স্কুলে একজন করে সহকারী শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও শুধু পুরনো সরকারি ৩৬৪টি স্কুলে এ পদে অনুমোদন রয়েছে।
এর মধ্যে কর্মরত ২৮৫ জন ও শূন্য পদ ৭৯। নতুন জাতীয়করণকৃত ২০৭টি ও নতুন প্রতিষ্ঠিত সাতটিসহ ২১৪টি স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকের পদ অনুমোদন করা হয়নি। বর্তমানে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ৭৭টি, নলছিটি উপজেলায় ৮৬টি, রাজাপুর উপজেলায় ৬০টি ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় ৭০টি স্কুল চলছে প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ছাড়া। সংশ্লিষ্ট স্কুলের সাধারণ সহকারী শিক্ষকদেরই প্রাক-প্রাথমিক ক্লাস দেখাশোনা করতে হয়।
সাধারণ সহকারী শিক্ষকের ২ হাজার ৩৯৯টি পদ থাকার কথা থাকলেও অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২ হাজার ২৮৭টি। এর মধ্যে কর্মরত ২ হাজার ১২২ ও শূন্য পদের সংখ্যা ১৬৫। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ৬১, নলছিটি উপজেলায় ৩৬, রাজাপুর উপজেলায় ২৫ ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় ৪৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। নতুন জাতীয়করণকৃত ২১টি স্কুলে ৮৪ জন শিক্ষক কাজ করলেও তাদের পদগুলোর অনুমোদন মেলেনি। এছাড়া নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত সাতটি সরকারি স্কুলে সহকারী শিক্ষকের ২৮টি পদের অনুমোদন নেই।
এদিকে ২০১৩ সালে জেলার চারটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাস চালু করা হলেও অতিরিক্ত জনবল দেয়া হয়নি। বাড়ানো হয়নি শিক্ষকের সুযোগ-সুবিধাও। অনেক শিক্ষক এ ধরনের স্কুলে কাজ করতে অনাগ্রহ দেখিয়ে থাকেন। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হচ্ছে না।
প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে ঝালকাঠির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র হালদার জানান, বিভিন্ন জটিলতার কারণে সহজেই শিক্ষক সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না। সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মর্যাদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন সরাসরি নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। পিএসসির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। সম্প্রতি ৩৪তম বিসিএস থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেসব স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই তার তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলার কিছু শূন্য পদ পূরণের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, সাধারণ সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদ পূরণের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে হাইকোর্টে মামলার কারণে সব আটকে আছে। প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পূরণের কথা। বিষয়টি নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।


