রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আকতার জাহানের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক বলছেন, তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন।
শনিবার বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষক আকতার জাহানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক এনামুল হক বলেন, ‘শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আমরা সন্দেহ করছি বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠিয়েছি ঢাকায়। প্রতিবেদন এলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।’
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে লাশ ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গেছে। আজ সকাল ১০টার দিকে শিক্ষক আকতার জাহানের ছোট ভাই, ভগ্নিপতি ও চাচাতো ভাইয়েরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান। তারপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে হিমঘর থেকে লাশ বের করা হয়। এ সময় তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা কেউ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না।
গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত জুবেরী ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় শিক্ষক আকতার জাহানকে উদ্ধার করে পুলিশ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিন দিন আগে থেকে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন তিনি।
আকতার জাহানের বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিজ বিভাগের সহকর্মী তানভীর আহমদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তবে বছর চার আগে বিচ্ছেদ হয়। এরপর আকতার জাহান ওই কক্ষে একা থাকতেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে আয়মান ঢাকার একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। মহাখালীর ডিওএইচএসে নানাবাড়িতে থাকে সে।
গতকাল সন্ধ্যার পর আকতার জাহানের কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে বলে তাঁর কয়েকজন সহকর্মী জানিয়েছেন। সেখানে লেখা ছিল, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক ও মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেছেন।


