বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

দরজা ভেঙে শিক্ষকের লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে রহস্য

RU-Sucicide-Noteরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আকতার জাহানকে গতকাল শুক্রবার শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিন দিন আগে থেকে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন তিনি। কক্ষটি থেকে একটি চিরকুট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁর কয়েকজন সহকর্মী।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত জুবেরী ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই শিক্ষককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক মাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হয়েছে। মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।’

সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান ওই কক্ষে একাই থাকতেন। জুবেরী ভবনের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন থেকেই তাঁকে বাইরে দেখা যায়নি। গতকাল দুপুরে তাঁর ছেলে আয়মান সোয়াদ অন্য শিক্ষকদের মুঠোফোনে জানায়, সে তার মাকে মুঠোফোনে পাচ্ছে না। এরপর কয়েকজন শিক্ষক ভবনে গিয়ে দেখেন, কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ। ডেকেও সাড়া মিলছে না। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, পুলিশ ও বিভাগের আরও শিক্ষকেরা সেখানে যান। দরজা ভেঙে দেখা যায়, মশারির মধ্যে তিনি শুয়ে আছেন। মুখ দিয়ে লালা ঝরছে।

ভবনের নিরাপত্তারক্ষী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ৬ তারিখ ঢাকা যাবেন। বারান্দায় থাকা গাছগুলোতে ঠিকভাবে পানি দিতেও বলেন তিনি।

বিকেল পাঁচটার দিকে জুবেরী ভবনে গিয়ে কক্ষটি তালাবদ্ধ দেখা যায়। জানালার ওপর দিয়ে দেখা যায়, ভেতরে বিছানায় মশারি পড়ে আছে, নিচে স্যান্ডেল। বিছানার পাশে একটি টুলে ভ্যানিটি ব্যাগ রাখা। পাশের কক্ষে বসবাসকারী শিক্ষক নাসরীন সুলতানা বলেন, পাশাপাশি কক্ষে থাকলেও তাঁর সঙ্গে খুব বেশি দেখা হতো না। গত কয়েক দিনেও তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি।

আকতার জাহানের বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিজ বিভাগের সহকর্মী তানভীর আহমদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তবে বছর চার আগে বিচ্ছেদ হয়। এরপর আকতার জাহান ওই কক্ষে একা থাকতেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে আয়মান ঢাকার একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। মহাখালীর ডিওএইচএসে নানাবাড়িতে থাকে সে।

রাজশাহীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবীর সন্ধ্যায় বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে ওই শিক্ষকের মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে এখনই ধারণা করা যাচ্ছে না। কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সন্ধ্যার পর আকতার জাহানের কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে বলে তাঁর কয়েকজন সহকর্মী জানিয়েছেন। সেখানে লেখা ছিল, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক ও মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেছেন। মৃতদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজকে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

আরও পড়ুন