সবার চোখেই জল। কারো প্রিয় শিক্ষক, কারো সহকর্মীর চিরবিদায়! মেনে নিতে পারছেন না কেউই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির জানাজার নামাজ শেষে যেন সবাই শোকে পাথর।
ময়নাতদন্ত শেষে জলির মরদেহ নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলে। সেখানে গোসল শেষে বিকেল চারটা ১০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদ খানসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। শনিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে একটি অ্যাম্বুলেন্সে জলির মরদেহ নিয়ে ঢাকার পথে রওনা দেন তার স্বজনরা। ঢাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
‘সুইসাইড নোটে’ দুটি অনুরোধের কথা লিখেছেন আকতার জাহান জলি। প্রথমটি- তার সন্তান সোয়াদকে যেন কোনভাবেই তার বাবা হেফাজতে নিতে না পারে। এখানে তিনি সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, ‘যে বাবা তার সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে সে যেকোন সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে।’ আর দ্বিতীয়টি- ‘আমার মৃতদেহ ঢাকায় না নিয়ে রাজশশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেয়ার অনুরোধ করেছি।’ কিন্তু জলির শেষ ইচ্ছেটি পূরণ হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হন তার স্বজনরা।
তার ছোট ভাই কামরুল হাসান রতন এ বিষয়ে বলেন, ‘আমার মা শয্যাশায়ী। তিনি চান মেয়ের লাশ ঢাকায় নেওয়া হোক। মুসলিম রীতিতে দাফন করা হোক। তাই হাসপাতালে লাশ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি জানান, জলির সন্তান আয়মান সোয়াদ ঢাকায় তার নানার বাড়িতে রয়েছে। ঢাকায় একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে সোয়াদ।
একই বিভাগের শিক্ষক তানভীর আহমেদকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন আকতার জাহান জলি। দাম্পত্য সমস্যায় তারা কয়েক বছর ধরে আলাদা থাকেন। বছর তিনেক আগে তাদের আনুষ্ঠানিক ডিভোর্স হয়।
এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষে থাকতেন জলি। অন্যদিকে তার সাবেক স্বামী তানভীর আহমেদ গত বছর একই বিভাগের আরেক শিক্ষিকাকে বিয়ে করেন।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জুবেরী ভবনে নিজের কক্ষ থেকে আকতার জাহান জলির (৪৫) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর রাতে পুলিশ একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করে।
এদিকে জলিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেছেন তার ছোট ভাই কামরুল হাসান রতন। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি মামলাটি করেন। তবে মামলায় আসামি হিসেবে কারো নাম উল্লেখ করেননি।


