বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বিসিএসের কারণে ঢাকায় ঈদ

bcsexams‘পড়াশোনা শেষ হলেও চাকরি হয়নি। পরিবার বা আত্মীয়স্বজন আগে যে চোখে দেখত, এখন আর সেভাবে দেখে না। শপথ নিয়েছি চাকরি না হওয়ার আগে বাড়ি যাব না। আমার কাছে এখন মাঝারি মানের একটা চাকরিই ঈদ।’

কথাগুলো বলছিলেন মো. মনিরুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে মাস্টার্স করেছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের পাঠকক্ষের সামনে কথা হচ্ছিল মনিরুজ্জামানের সঙ্গে গতকাল সোমবার রাতে। তাঁর ছলছলে দুটি চোখে বাড়ি যেতে না পারার কষ্ট বোঝা যায়। তিনি বললেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। সময় যেন নষ্ট না হয়, এ জন্য বাড়ি যাইনি।’

মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলার সময় পাঠকক্ষের সামনে এলেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির মো. খালিদ। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে গেলে খুব ভালো লাগত। তবে সময়ও নষ্ট হতো। ৩০ তারিখ বিসিএস পরীক্ষা। বাড়ি যাব কীভাবে? সারা দিন রিডিংরুমে কাটাচ্ছি। এখন এটাই আমার ঈদ।’

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিনও ঈদে বাড়ি যাবেন না। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে আছে শুধু মা আর ছোট বোন। বাড়ি যেতে খুব ইচ্ছে করছিল। তিন বছর আগে মাস্টার্স পাস করলেও চাকরিই হলো না। কোন মুখে বাড়ি যাব। সামনে বিসিএস পরীক্ষা। আর সময় নষ্ট করতে চাই না।’

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফ জুয়েলও বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ঢাকা রয়েছেন। তবে আজ ঈদের দিন তিনি বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়ে পুরান ঢাকায় যাবেন। তিনি বলেন, ‘বিসিএসের প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় আছি। রাজধানীতে কখনো ঈদ করা হয়নি। কালকে পুরান ঢাকায় বন্ধুদের সঙ্গে গিয়ে দেখব তারা কীভাবে ঈদ উদ্‌যাপন করে।’

শুধু বিসিএসের কারণে নয়, আরও অন্য কারণেও ঢাকায় আছেন এমন দুজনের শিক্ষার্থীর দেখা মিলল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মালতী গায়েন। তিনি বলেন, ‘ছুটি থাকলেও ঈদের সময় অনেক যানজট থাকে। আগামী ৭ অক্টোবর পূজার ছুটি হবে। ওই সময় যাব।’ শামসুন্নাহার হলের আরেকজন আবাসিক শিক্ষার্থী সঞ্চিতা বিশ্বাসও পূজার ছুটিতে বাড়ি যাবেন বলে জানালেন।

যেসব শিক্ষার্থী ঈদের সময় আবাসিক হলগুলোতে থাকেন, কয়েক বছর ধরে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবার পরিবেশন কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক মহিউজ্জামান চৌধুরীকে।

তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর বিসিএস পরীক্ষায় থাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় দুই হাজারের ওপরে শিক্ষার্থী আছেন হলগুলোতে। তাঁদের সবার জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খাবার পরিবেশন করবে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য এবারের মেনু গরু অথবা খাসির রেজালা, পোলাও ও ভাত, ড্রিংকস এবং সালাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রায় সব হলেই আত্মীয় বা দূর সম্পর্কের অনেক ছাত্রের কাছে ভর্তি পরীক্ষার্থীরা রয়েছেন। এঁদের অনেকেই ঈদে বাড়ি যাননি। সূর্যসেন হলে দূর সম্পর্কের এক ভাইয়ের কাছে উঠেছেন রংপুরের সাহেব আলী।

তিনি এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। বাড়ি না যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে রংপুর অনেক দূর। আসা-যাওয়ায় সময় চলে যাবে। কিছুদিন পরেই ভর্তি পরীক্ষা। আমার সময় নেই ভাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এম আমজাদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, অন্য বছরগুলোর তুলনায় এবার অনেক শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছেন। এর মূল কারণ বিসিএস পরীক্ষা এবং রাস্তায় যানজট। এ ছাড়া অনেক ভর্তি

পরীক্ষার্থীরাও বিভিন্ন হলে অবস্থান করছেন। ফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের থাকার হার বেশি।

আরও পড়ুন