বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

কোরবানির পশু জবাইয়ের ছবি ফেসবুকে: ধর্ম কী বলে


NEWSWORLDBD.COM - September 15, 2016

কোরবানির পশু জবাইয়ের ছবি ফেসবুকেঈদের পরিবার পরিজনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে আনন্দঘন ছবির পাশাপাশি অনেকেই প্রকাশ করছেন কোরবানির পশু কেনা, জবাই, কাটাসহ এ সংক্রান্ত নানা ধরণের ছবি। রক্তাক্ত পশুর ছবি সহ কোরবানির পশুর ছবি প্রকাশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বির্তক। অনেকেই এসব ছবি প্রকাশে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, আবার কেউ কেউ এর পক্ষে নানা যুক্তি দিচ্ছেন।

ধর্মীয় এই উৎসবে কোরবানির পশু জবাই বা এ সংক্রান্ত ছবি প্রকাশে ধর্ম দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছেন দেশের প্রখ্যাত আলেমরা।

এ প্রসঙ্গে শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, মৌলিক ভাবে ধর্মের বিধান পালন মানেই হচ্ছে আল্লাহমুখী হওয়া। তাকওয়ার সাধনায় উত্তীর্ণ হয়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। ফেসবুকে ছবি প্রকাশ বা অন্য যে কোনও ভাবেই হোক নিজের কৃতিত্ব জাহির মৌলিকভাবে ধর্মীয় চেতনা বহির্ভূত। কোরবানি একটি ইবাদত। এই ইবাদত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজের বাহাদুরি প্রকাশ, ফূর্তি বা বিকৃত মনোভাব প্রকাশ ইসলামি চেতনাবিরোধী বিষয়। কোরবানির পশু জবাই কিংবা কোরবানি পশু নিয়ে ফেসবুকে বা অন্য কোনও ভাবে বাহাদুরি, অহেতুক ফূর্তি পরিহার করা উচিত। সব চেয়ে বড় কথা ইসলামে অপ্রয়োজনে ছবি তোলাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ আরও বলেন, প্রতিবেশির কষ্ট হয় এমন কোনও কাজ বৈধ হলেও আড়ালে করতে বলা হয়েছে শরিয়তে। ধরুন, আপনি ফল কিনছেন বাজার থেকে, কিন্তু সেই ফল প্রতিবেশিকে দিতে পারছেন না। এ অবস্থায় আপনার প্রতিবেশি মুসলমান কি হিন্দু যেই হোন, যদি মনে করেন এ ফলের উচ্ছিষ্ট দেখে তিনি নিজ সন্তানকে তা কিনে না দিতে পেরে আফসোস করবেন, সেক্ষেত্রে এমন স্থানে ওসব ফেলতে পারেন না যা দেখে তিনি হীনমন্যতায় ‍ভুগতে পারেন। এমনটাই বলা হয়েছে শরিয়তে। কোরবানির ক্ষেত্র এ বিষয়টি মুসলমানদের বিবেচনা করা উচিত।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘এক কথায় বলবো, অপ্রয়োজনে মানুষ বা অন্য কোনও প্রাণির ছবি তোলা বা প্রকাশ করা ইসলামে নিরুৎসাহিত। কোরবানির পশুর বিকৃত ছবি হোক আর স্বাভাবিক ছবি হোক, ফেসবুকে বা অন্য কোনও মাধ্যমে অপ্রয়োজনে প্রকাশ শরিয়তের দৃষ্টিতে পছন্দনীয় কাজ নয়। ’

এ প্রসঙ্গে জামিয়া কোরানিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মৃত পশুর ওপর উঠে সেলফি তোলা, এসবের সাথে আমাদের সমাজ পরিচিত না। এটা বিকৃত মানসিকতার কাজ। কিন্তু উপহাস বা বিকৃতি ছাড়া সাধারণ ভাবে পশু জবাই করার বা মাংস কাটার ছবি বাংলাদেশ জন্য সমস্যা নয় বলে আমি মনে করি। এটা তো স্বাভাবিকভাবে মানুষজন বাস্তবে দেখে। পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। তবে রক্তের ছবি অনেকে সহ্য করতে পারেন না, এটা শুধু কোরবানি ক্ষেত্রে নয়, মারামারি বা অন্য দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও হতে পারে।

মুফতি সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, কারও যদি সমস্যা হয় তার এ ধরনের ছবি, ভিডিও দেখা থেকে বিরত থাকা উচিত।

রাজধানীর বড় কাটরা মাদ্রসার শিক্ষক মাওলানা আনসারুল হক ইমরান বলেন ‘অনেকেই বলেন ঈদ মানে আনন্দ, কিন্তু কিসের আনন্দ ? আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বৈধ ভাবে উপার্জিত অর্থের দিয়ে পশু কেনা, সঠিক পদ্ধতিতে জবাই করে মাংস খাওয়া, গরিব-দুস্থদের  জন্য মাংস বণ্টন করা, সঠিক ভাবে কোরবানি দিয়ে আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে পারার আনন্দ। বেশি দামি গরু কিনে জবাই দেওয়া, মানুষের কাছে নিজেকে জাহির মানে কোরবানি নয়। পবিত্র কোরআন শরীফে আল্লাহ বলেছে, ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এর গোশত ও রক্ত, পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। (সূরা : মায়িদা, আয়াত : ২৭)

তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানি নিয়ে শরিয়তের বিধান হচ্ছে, পশুকে যতটা সম্ভব কম কষ্ট দিয়ে দ্রুত জবাই করা। ইসলাম ধর্মে কোরবানির পশুকেও আল্লাহর নিদর্শন বলে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। একটি পশুকে আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জবাই করছেন, সেই পশুটি মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে সেই ছবি বা ভিডিও প্রকাশ অমানবিক। মৃত পশুর উপরে বসে ছবি বিকৃত রুচির বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আমাদের দেশের অনেক মাদ্রসারা শিক্ষার্থীরাও না বুঝে এমন ছবি প্রকাশ করছেন।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.