বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ: নেপথ্যে রক্তপানির মিশ্রণ


NEWSWORLDBD.COM - September 17, 2016

ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ: নেপথ্যে রক্তপানির মিশ্রণঈদুল আজহার দিন কালে মুষলধারায় বৃষ্টিতে জমে ওঠা পানি আর কোরবানির পশুর রক্তের প্রভাব পড়েছে ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পানির লাইনে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলকায় ওয়াসার পানি দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা যথাযথ না থাকা এবং ওয়াসা কর্তৃপক্ষের পানির লাইন নিয়মিত দেখভাল না করাকেও দায়ী করেছেন তারা।

তবে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ধরনের কোনও অভিযোগ নিয়ে তাদের কাছে কেউ আসেননি।

এদিকে, শুক্রবার রামপুরা, হাজীপাড়া, মালিবাগ, শান্তিনগর, বেইলী রোডসহ পুরান ঢাকার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জলাবদ্ধতা না থাকলেও দুর্গন্ধ রয়েছে কিছু কিছু স্থানে। এর সঙ্গে বাড়তি দুর্ভোগ হিসেবে হাজির হয়েছে ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ। ঈদের ছুটিতে এই দুর্ভোগ পোহাতে গিয়ে যথেষ্ট বিরক্ত এলাকাবাসী।

পূর্ব হাজীপাড়ার বউবাজার এলাকার বাসিন্দা খন্দকার মাহবুব অভিযোগ করে বলেন, ‘ঈদের দিন বউবাজারের সড়কে হাঁটুপানি হইছিল। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোরবানির পশুর রক্ত মিশে লাল হয়ে ওঠে। শুরুতে দেখে কেউ কেউ আঁতকে উঠলেও পরে বুঝতে পারেন, পানির সঙ্গে কোরবানির পশুর রক্ত মিশে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি জমে এটা সাধারণ ঘটনা জানিয়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই এ এলাকায় পানি ওঠে। পানি নামে সহজে না। এবার সমস্যা আরও প্রকট হইছে। বিকেলের পরই ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ শুরু হয়। মনে হয়, রক্ত মেশা পানি ওয়াসার লাইনে ঢুকছে। এখনও গন্ধ আছে।’

একই এলাকার ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন, ‘পানিতে এত দুর্গন্ধ যে, খাওয়া তো দূরের কথা, গোসল করারও কোনও উপায় নেই। খুবই বাজে দুর্গন্ধ। মনে হয়, রক্তমেশা পানি ওয়াসার পানিতে মিশেছে।’ তিনি বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি তো ওঠেই, সাথে সাথে গ্যাসের লাইনেও পানি ঢুকে যায়। গ্যাসের লাইনও তখন বন্ধ হয়ে যায়। আর রাস্তায় বের হওয়া যায় না। এদিকে গ্যাস থাকে না, আবার অন্যদিকে পানিতেও দুর্গন্ধ; একেবারে বন্দি অবস্থা তৈরি হয়।’

একই অবস্থা শান্তিনগরেরও। জলাবদ্ধতা শান্তিনগরবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। বৃষ্টি হলেই এলাকার রাস্তা একেবার পানিতে তলিয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়তে হয়, ওই এলাকার বাসিন্দাদের। এবার এলাকাবাসীর কাছে নতুন দুর্ভোগ হিসেবে হাজির হয়েছে, ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ। তবে গত দুইদিন ধরে এলাকায় দুর্গন্ধ থাকলেও শুক্রবার থেকে নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শান্তিনগর বাজার এলাকায় কথা হয়, স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। বৃষ্টি হলেই পানি জমে। এবার বৃষ্টির পানির সাথে মিশেছে কোরবানির রক্ত। আর এই রক্ত মনে হয় মিশেছে ওয়াসার পানিতে। ঈদের দুইদিন পানিতে দুর্গন্ধ ছিল। মুখেই নেওয়া যাচ্ছিল না। তবে এখন মনে হয়, কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। দুর্গন্ধ এখন আর নেই।’

এদিকে, পুরান ঢাকায় জলাবদ্ধতা ও ওয়াসার পানিতে এখন দুর্গন্ধ না থাকলেও কোরবানির পশুর বর্জ্যের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে কিছু কিছু এলাকায়। নাজিম উদ্দিন রোডের বাসিন্দা আলী আহাম্মেদ জানান, ঈদের দিন তো জলাবদ্ধতার কারণে অনেকে কোরবানির পশু পর্যন্ত জবাই করতে পারেননি। পরের দিন পানি সরলে কোরবানি দেওয়া হয়েছে। এখন জলাবদ্ধতা নেই। কিন্ত আশেপাশে বর্জ্য ফেলার কারণে এখন এগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন পরিষ্কার করলেও কিছু কিছু স্থানে এ দুর্গন্ধ রয়ে গেছে।

বকশীবাজারের বাসিন্দা মারজানা নিলু বলেন, ‘ঈদের দিন সন্ধ্যার পর ওয়াসার পানিতে কিছুটা দুর্গন্ধ ছিল। পরদিন থেকে আবার স্বাভাবিক হয়েছে। এখন তেমন একটা দুর্গন্ধ পাচ্ছি না।’

পানিতে দুর্গন্ধের কোনও খবর তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিন এ খান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের কোনও তথ্য নেই।’

লিকেজ হয়ে পানি মিশেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা যে কোনও জায়গাতেই হতে পারে। তবে বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি ওয়াসার লাইনে প্রবেশের সুযোগ নেই। হয়ত পশু কোরবানির সময় বাড়ির গ্রাউন্ডের ট্যাংকে রক্ত পড়তে পারে। এটা থেকেও পানিতে দুর্গন্ধ হতে পারে।’ তবে লিকেজের কারণে কোথাও দুর্গন্ধ হচ্ছে কিনা সে বিষয়টা খোঁজ নেবেন বলে জানালেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিন এ খান।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.