আটকের পর পুলিশ ধর্ষক দেবরকে ছেড়ে দেওয়ায় অভিমানে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক গৃহবধূ। শনিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিমা আকতার (২১) নামের ওই গৃহবধূর মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়।
পুলিশ এই ঘটনায় রিমার স্বামী নাজিম উদ্দিনকে আটক করেছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া অভিযুক্ত ধর্ষক দেবর আজিম উদ্দিন।
রিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ভাষ্য, রিমার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দেবর আজিমকে (২২) আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। এই অপমানে রিমা বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তবে রিমার পরিবার বলছে, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন রিমাকে হত্যা করেছে।
রিমা আকতার রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড মুহাম্মদপুর এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজিজ জানান, কয়েক বছর আগে রিমার সঙ্গে একই এলাকার আবদুল হকের ছেলে মো. নাজিম উদ্দিনের (২৮) বিয়ে হয় সামাজিকভাবে। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসার সুখে কাটলেও বছর খানেক ধরে দুজনের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার ফেরদৌস বেগম বলেন, ‘গত মঙ্গলবার ঈদুল আজহার রাতে রিমাকে দেবর মো. আজিম জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। রিমা তার পিতাসহ আমার কাছে এসে ধর্ষণের ঘটনা জানিয়ে বিচার দাবি করেন। আমি স্থানীয় পুরুষ মেম্বার মো. আজিজকে বিষয়টি জানালে তিনি থানাকে জানাতে বলেন। পরে আমিসহ স্থানীয় মেম্বার মো. আজিজ বিষয়টি থানায় জানাই এবং আজিমকে ধরে পুলিশের নিকট সোপর্দ করি। কিন্তু সেই দিন রাতেই পুলিশ আজিমকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়। এরই মধ্যে শনিবার জানতে পারি রিমা বিষপান করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।’
রিমার পিতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ির লোকজন ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।’
রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা এখনো নিশ্চিত নই আমরা, নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে।’
কদিন আগে রিমার দেবরকে ধরে আনার বিষয়টি স্বীকার করে ওসি বলেন, ‘ধর্ষণের কোনো ঘটনা সম্পর্কে আমাকে কেউ জানায়নি। দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের অভিযোগে আজিমকে থানায় আনা হয়েছিল, পরে তাদের মাঝে সমঝোতা হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়।’
তবে রিমার মৃত্যুর ঘটনাটি পুলিশ অনুসন্ধান করে দেখছে বলেও জানান ওসি।


