বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

অপারেশন টেবিলে রোগী রেখে পালালেন ডাক্তার: মরল প্রসূতি

অপারেশন টেবিলে রোগী রেখে পালালেন ডাক্তার, মরল প্রসূতিঅনুমোদনহীন একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ানের সময় অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) টেবিলেই নার্গিস আক্তার (২৪) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।

রোববার রাত ১১টার দিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলায় চৌবাড়িয়া বাজারের অনন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। নার্গিস উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের মো. খোকন আলীর স্ত্রী।

সোমবার সকালে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ক্লিনিকের সেবিকা সালমা সুলতানা ও আয়া নাজনীনকে আটক করা হয়। প্রসূতির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানায়, রোববার বিকেলে নার্গিসকে চৌবাড়িয়া বাজারের অনন ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। রাত ১১টার দিকে তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানেই মারা যান তিনি। কোনোকিছু বুঝে উঠার আগেই চিকিৎসক, তাঁর দুই সহযোগী ও ক্লিনিকের মালিক আশরাফুল ইসলাম সটকে পড়েন।

এ ঘটনায় আটক সেবিকা সালমা সুলতানা বলেন, ‘রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক সারোয়ার আলম স্বরূপ প্রসূতি নার্গিসের অপারেশন করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাঁকে অপারেশন টেবিলেই ফেলে রেখে ডাক্তারসহ অন্যরা পালিয়ে যান। সেখানেই নার্গিসের মৃত্যু হয়।’

সেবিকা সালমা আরো জানান, নাচোল উপজেলার সাহাপুর গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে সামিউল হকের মাধ্যমে ডাক্তার সারোয়ার আলম স্বরূপকে ডেকে আনা হয়েছিল। তবে এ অপারেশনে অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে কে ছিলেন তা জানাতে পারেননি সালমা।

সামিউল হকের ব্যাপারে নাচোল জননী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক মজিবুর রহমান জানান, সামিউল জননী ক্লিনিকে পারটাইম কাজ করেন। এ ছাড়া ডাক্তার সারোয়ারের সহযোগী হিসেবেও কাজ করেন তিনি। চিকিৎসা বিষয়ে জামিলুরের কোনো সনদ রয়েছে কি-না এ বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি মজিবুর রহমান।

এ দিকে সংবাদ পেয়ে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফরিদ উজ জামান ও মেডিকেল অফিসার ফজলে রাব্বী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফরিদ উজ জামান বলেন, ‘অ্যানেসথেসিয়াজনিত ক্রটি ও অপারেশন থিয়েটারের অব্যবস্থপনার কারণেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।’

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলা হয় চিকিৎসক সারোয়ার আলম স্বরূপের সঙ্গে। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে পাশ কাটিয়ে যান।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন