আধুনিকায়নের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম শক্তিশালী করতে নিজেদের সরঞ্জামে ড্রোন যোগ করতে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। এছাড়াও ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার জন্য অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম সংযোজনের পরিকল্পনাও নিয়েছে সামরিক বাহিনীর সংস্থাটি।
বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘ডিজিএফআই এর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়।
কর্নেল মো. সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “প্রতিকূল পরিবেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সার্ভেল্যান্স কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সার্ভেল্যান্স ড্রোন এবং সকল ভিভিআইপি নিরাপত্তা নিশ্চিতের নিমিত্তে অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম সংযোজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।”
চালকবিহীন উড়ন্ত যান বা ড্রোনের ব্যবহার বিশ্বে দিন দিনই বাড়ছে। দূর নিয়ন্ত্রিত ড্রোনে স্থাপিত ক্যামেরার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ নানা ক্ষেত্রেই হচ্ছে। চীনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও ড্রোন ব্যবহার হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার ড্রোন সংযোজনের প্রস্তাবের বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক সেনা কর্মকর্তা সুবিদ আলী ভূইয়া বলেন, “তারা যেসব বিষয় উপস্থান করেছে সেগুলোর উপর আলোচনা করে কমিটি সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। এরপর সরকার সেগুলো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেবে।”
সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসস্থান সমস্যার সমাধানে গত ২৩ অাগস্ট একনেকে ১৫০ কোটি টাকার অফিসার্স মেস, অন্যান্য পদবীর সদস্যদের আবাস নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন করেছে। ২০১৯ সালে এই প্রকল্প শেষ হবে। সেনা সদর ঢাকা সেনানিবাসের বিভিন্ন স্থানে ভবন নির্মাণের জন্য মোট দুই দশমিক নয় একর জমি ব্যবহারের অধিকার দিয়েছে।
সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, পাবনা, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরে ডিজিএফআইর শাখা খোলা হচ্ছে বলেও সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়।
ডিজিএফআই বলেছে, জঙ্গি অর্থায়ন রোধে তারা সব অনলাইন আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা নিয়েছে।
সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স এবং সাইবার সিকিউরিটিতে সক্ষমতা অর্জনের জন্য চারটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। সেগুলো হলো- ইলেট্রিক ওয়্যারফেয়ার সংক্রান্ত সক্ষমতা, ট্রান্সফ্রন্টিয়ার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনার সক্ষমতা, স্যাটেলাইট মনিটরিং সক্ষমতা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ডিজিএফআইয়ের কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী, বেগবান, কার্যকরী এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়িত হলে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এর সার্বিক গোয়েন্দা কার্যক্রম বহুলাংশে বাড়বে।”
সংসদীয় কমিটি ডিজিএফআইর কার্যক্রম আরও গতিশীল ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ফলপ্রসূ গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ এবং সন্দেহজনক অনলাইন আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করেছে বলে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এছাড়া কমিটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও সীমান্তে নজরদারি জোরদার করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে আরও বেশি তৎপর হওয়ার সুপারিশ করেছে।
সুবিদ আলী ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. ইলিয়াস আলী মোল্লাহ, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, হোসনে আরা বেগম অংশ নেন। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন এই সভায়।


